বিনোদনের ঝলমলে দুনিয়ায় স্পটলাইটের পেছনের অন্ধকার, এক প্রবীণ তেলুগু অভিনেত্রীর করুণ পরিণতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রুপোলি পর্দার চটকদার গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক নির্মম ও নিষ্ঠুর বাস্তব। সিনেমার পর্দায় যেখানে হিরোদের বীরত্বে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, বাস্তব জীবন সেখানে অনেক বেশি কঠিন এবং ট্র্যাজিক। অর্থের অভাবে চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়া এবং মাঝরাতে একসময়ের জনপ্রিয় প্রবীণ তেলুগু অভিনেত্রী পাবলা শ্যামলের হায়দরাবাদের রাস্তায় অসহায়ভাবে পড়ে থাকার ঘটনা বিনোদন দুনিয়ার সেই অন্ধকার দিকটিকেই আবারও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
টাকার অভাবে মিলল না চিকিৎসা, মাঝরাস্তায় ফেলে গেল ট্যাক্সি
বেশ কিছুদিন ধরেই তীব্র হৃদ্রোগের সমস্যায় ভুগছিলেন ১৯৮৫ সাল থেকে তেলুগু চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করা বর্ষীয়ান শিল্পী পাবলা শ্যামল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুকাতপল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান কর্পোরেট চিকিৎসাব্যবস্থায় যে মানবিকতার চেয়ে অর্থের মূল্য অনেক বেশি, তারই প্রমাণ মিলল হাতেনাতে। পর্যাপ্ত টাকা না থাকা এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভরতি নিতে সরাসরি অস্বীকার করে।
এরপর হাসপাতাল থেকে তাঁর জন্য একটি ট্যাক্সির ব্যবস্থা করা হলেও নির্মমতার এখানেই শেষ ছিল না। মাঝরাস্তায় এসে অসুস্থ ও অসহায় এই অভিনেত্রীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে চম্পট দেয় চালক। গভীর রাতে হায়দরাবাদের ফাঁকা রাস্তায় সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও একা অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পথচারীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে এবং ‘আরকে ফাউন্ডেশন’ নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
দেবদূত হয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্রযোজক দিল রাজু
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মর্মান্তিক খবর চাউর হতেই তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রবীণ এই অভিনেত্রীর এমন চরম লাঞ্ছনার কথা জানতে পেরে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি বিখ্যাত প্রযোজক এবং ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান দিল রাজু। তিনি দ্রুত নিজের সহকারী দলকে পাঠিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাবলা শ্যামলের প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও সমস্ত আর্থিক দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রবীণ অভিনেত্রী ও তাঁর কন্যা প্রযোজকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন ও জীবনযুদ্ধ
‘গোলিমার’, ‘বর্ষম’, ‘অন্ধ্রওয়ালা’র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে সহ-অভিনেত্রী বা কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা পাবলা শ্যামলের এই লড়াই কিন্তু আজকের নয়। দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। নিজের এবং যক্ষ্মায় আক্রান্ত শয্যাশায়ী মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে একসময় জীবনের সমস্ত সম্মাননা ও ট্রফি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এই শিল্পী। এর আগেও একাধিকবার গৃহহীন হয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অতীতে চিরঞ্জীবী, পবন কল্যাণ কিংবা অল্লু অর্জুনের মতো তারকারা তাঁকে আর্থিক সাহায্য করলেও বার্ধক্যের এই শেষলগ্নে এসে তাঁর এই চরম পথ-বিভ্রাট প্রমাণ করে দিল যে, গ্ল্যামার দুনিয়ার আলো নিভে যাওয়ার পর জীবন কতটা নির্মম হতে পারে।
