বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দুর্যোগের পূর্বাভাস, দক্ষিণবঙ্গের ৯ জেলায় জারি সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শুক্রবার বিকেলে ৮৮ কিলোমিটার বেগের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে কলকাতা ও শহরতলি। ঝোড়ো হাওয়া আর ভারী বৃষ্টির জেরে উপড়ে পড়েছে বহু গাছ, থমকে গিয়েছিল ট্রেন ও যান চলাচল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাজ্যজুড়ে অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় পুনরায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার দাপট ও মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা
আবহাওয়া দফতরের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ— এই ৯টি জেলায় তীব্র ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা কম থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া চলতে পারে।
অন্য দিকে, উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে বর্তমানে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছে, যা সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই কারণে শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে।
আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণ ও আগামী দিনের প্রভাব
হঠাৎ এই দুর্যোগের নেপথ্যে একটি শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় সিস্টেম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। পাকিস্তান থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ের ওপর দিয়ে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি ওড়িশা সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
এই ঝড়-বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা কমেছে। কলকাতায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে এবং আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী মঙ্গলবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলিতে পুনরায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ফিরে আসতে পারে বলে জানা গেছে। বারংবার এই ঝড়-বৃষ্টির ফলে একদিকে যেমন গরম থেকে স্বস্তি মিলছে, অন্যদিকে উপড়ে পড়া গাছ ও ট্রাফিক বিপর্যয়ের জেরে জনজীবনে দুর্ভোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
