বিয়ে ছাড়াই যুবকদের সাথে থাকতে বাধ্য হয় এখানকার তরুণীরা, জানুন কী এই-নাতা প্রথা! – এবেলা

বিয়ে ছাড়াই যুবকদের সাথে থাকতে বাধ্য হয় এখানকার তরুণীরা, জানুন কী এই-নাতা প্রথা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থান তার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বখ্যাত হলেও মরুরাজ্যের আনাচে-কানাচে আজও টিকে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এক বিচিত্র রীতি। ‘নাতা প্রথা’ নামক এই প্রথার মাধ্যমে কোনো বিবাহিত নারী বা পুরুষ প্রথাগত বিয়ে ছাড়াই অন্য সঙ্গীর সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। আধুনিক যুগে যেখানে আইনি বিচ্ছেদ বা লিভ-ইন সম্পর্কের বিষয়গুলো জটিল আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে রাজস্থানের কিছু নির্দিষ্ট জনজাতির মধ্যে এই প্রথাটি আজও অলিখিত সামাজিক আইনের মতো কাজ করে।

সামাজিক বিবর্তন ও প্রথার উদ্দেশ্য মূলত বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বহু বছর আগে এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। প্রাচীন যুগে স্বামী মারা গেলে নারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠত, সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক সমাজ জীবনে ফিরিয়ে আনতেই নাতা প্রথার প্রচলন হয়। তবে বর্তমানে এর প্রয়োগ নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোনো নারী যদি অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে থাকতে চান, তবে তাঁকে আগের স্বামীর পরিবারকে পঞ্চায়েত নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বা ‘ঝগড়া রাশি’ প্রদান করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় আইনি বিচ্ছেদের কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

প্রভাব ও বর্তমান বাস্তবতা এই প্রথার ইতিবাচক দিক হলো এটি অত্যন্ত সহজ এবং জটিলতামুক্ত। এর মাধ্যমে এক জন নারী বা পুরুষ কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পান। তবে এর নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো পুরুষের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া এই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের সামাজিক পরিচয় নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হয়, যাদের স্থানীয় ভাষায় ‘বাকড়া’ বলা হয়। প্রথাটি প্রাচীন হলেও বর্তমানের পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • নাতা প্রথা রাজস্থানের কিছু নির্দিষ্ট জনজাতির মধ্যে প্রচলিত এক শতাব্দী প্রাচীন প্রথা।
  • এই রীতি অনুযায়ী আইনি বিয়ে ছাড়াই কোনো নারী বা পুরুষ অন্য সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করতে পারেন।
  • বিধবা ও পরিত্যক্তা নারীদের সামাজিক আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই প্রথার উদ্ভব হয়েছিল।
  • বর্তমানে আর্থিক লেনদেন ও পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে এই প্রথাটি পরিচালিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *