বিরামহীন গুলিবর্ষণে নিথর না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল আততায়ীরা, মধ্যমগ্রাম হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, এটি কোনো আকস্মিক অপরাধ নয় বরং অতি পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। জনবহুল এলাকায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চন্দ্রনাথবাবুকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এমনকি তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে এবং শেষ নিঃশ্বাস পড়া পর্যন্ত খুনিরা ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিকল্পিত হামলা ও খুনিদের ঠান্ডা মাথার অপারেশন
ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ, যখন চন্দ্রনাথবাবু মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাইকে করে আসা একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি আটকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। অত্যন্ত কাছ থেকে চালানো গুলিতে চন্দ্রনাথবাবু ও তাঁর গাড়িচালক দুজনেই গুরুতর জখম হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর চালককে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে। হামলার ধরণ দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, শিকারের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে পালানোর কোনো তাড়াহুড়ো দেখায়নি।
রাজনৈতিক ও পেশাগত প্রেক্ষাপট
সাবেক বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ সহকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে তিনি বিরোধী দলনেতার হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারের কাজ তদারকি করেছিলেন। নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পেশাদার আততায়ীদের ব্যবহার করে এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে কি না, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে।
এক ঝলকে
- মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতার সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা।
- আততায়ীরা মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করে ঠান্ডা মাথায় অপারেশন চালায়।
- আহত গাড়িচালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
- প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথবাবু সম্প্রতি ভবানীপুর নির্বাচনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
