বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নয়া মোড়! এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ শোভনদেব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন অব্যাহত। বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ হস্তক্ষেপ না করায় এবার সরাসরি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গেল বেঞ্চ জানায়, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। আদালত এখনই কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি এবং আগামী ২৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করে। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুক্রবারই বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন শোভনদেব। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু সই জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটল দেখা দেয়। দল কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দুটি ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক বিভাজনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিধানসভার অন্দরে। বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত স্পিকারের স্বীকৃতি পাওয়ায় মূল দলের অস্বস্তি বেড়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের রায় যেদিকেই যাক না কেন, এই আইনি লড়াই বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলার পাশাপাশি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আগামী দিনে আরও জটিল করে তুলবে।
