লেটেস্ট নিউজ

বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন ১০০ মাইলের এই জলপথ কেন এখন রণক্ষেত্র হওয়ার পথে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাত্র ২১ মাইল চওড়া এক সংকীর্ণ জলপথ যার নাম হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সামুদ্রিক করিডোরটি বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল হয়ে উঠেছে। উত্তর দিকে ইরান এবং দক্ষিণ দিকে ওমানের অবস্থান হলেও ভৌগোলিক কারণে এই জলপথে তেহরানের দাপট প্রশ্নাতীত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উপকূলীয় জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও কৌশলগত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর সিংহভাগই ইরানের সামরিক নজরদারিতে থাকে।

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। পরিসংখ্যান বলছে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই ছোট প্রণালীটি পার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল রপ্তানির প্রধান ভরসা এই রুট। শুধু তেল নয় কাতারের উৎপাদিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথেই বিশ্ববাজারে যায়। চিন এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতও তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে ইরান ও আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে এই অঞ্চল চরম উত্তপ্ত। গত ৪ মার্চ ইরান এই প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ গেলে সেখানে হামলা চালানো হবে। ইতিপূর্বেই ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে যার সর্বশেষ শিকার গুজরাতগামী একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজ। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তা ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ভারতের জন্য এই সংকট অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ দেশের এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই পথ দিয়ে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *