বিশ্বের ঋণদাতার তালিকায় ভারত: সবচেয়ে বেশি সাহায্য পাচ্ছে কোন দেশ? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারত এখন আর কেবল বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল দেশ নয়; বরং বিশ্বমঞ্চে এক শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত কয়েক বছরে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ভারত তার কূটনৈতিক প্রভাব আরও সুসংহত করেছে। ২০২৪-২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নয়নে ভারত কতটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
ঋণের ঝুলিতে শীর্ষে কোন দেশ?
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে বিদেশ মন্ত্রকের জন্য মোট ২২,১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য রাখা হয়েছে ৫,৬৬৭.৫৬ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের থেকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনুদান ও ঋণ গ্রহণকারী দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে ভুটান। যদিও গত বছরের তুলনায় এই বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও ভারতের কৌশলগত বৈদেশিক নীতিতে ভুটান সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে।
ভারতের থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার তালিকা (কোটি টাকায়):
| ক্রমিক সংখ্যা | দেশের নাম | সহায়তার পরিমাণ (কোটি টাকা) |
| ১ | ভুটান | ২,০৬৮.৫৬ |
| ২ | নেপাল | ৭০০ |
| ৩ | মালদ্বীপ | ৪০০ |
| ৪ | মরিশাস | ৩৭০ |
| ৫ | মায়ানমার | ২৫০ |
| ৬ | শ্রীলঙ্কা | ২৪৫ |
| ৭ | আফগানিস্তান | ২০০ |
| ৮ | আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহ | ২০০ |
| ৯ | বাংলাদেশ | ১২০ |
| ১০ | সেশেলস | ৪০ |
| ১১ | লাতিন আমেরিকার দেশসমূহ | ৩০ |
৬৫টিরও বেশি দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত
বর্তমানে ভারত বিশ্বের ৬৫টিরও বেশি দেশকে ঋণ, অনুদান, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ভারত তার বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করে। নেপাল ও মালদ্বীপের মতো দেশে ভারতের এই বিশাল বিনিয়োগ মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হয়।
ভারতের নিজস্ব ঋণের পরিস্থিতি
অন্যান্য দেশকে ঋণ দিলেও, ভারত তার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও জরুরি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। ২০২০ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫৮.৫ বিলিয়ন ডলার। এর সিংহভাগই বাণিজ্যিক ঋণ এবং এনআরআই (NRI) ডিপোজিট। বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের উন্নতির জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) থেকে বড় অংকের ঋণ নিয়েছে ভারত সরকার।
কেন্দ্রীয় বাজেটের এই তথ্য প্রমাণ করে যে, ভারত কেবল নিজের উন্নয়ন নয়, বরং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতি মেনে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

