বিষমদের মরণ ছোবলে এবার পুণেতে হাহাকার! দুই দিনে প্রাণ হারালেন ১৮ জন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের পুণে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে এলাকায় বিষমদের মরণ ছোবলে বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় এই দুই অঞ্চলে বিষমদ পানের কারণে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বিষাক্ত এই মদের প্রতিক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে আরও বহু মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র শিল্পাঞ্চল জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিষমদ চক্রের মূল পান্ডা সহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মৃত্যুর তাণ্ডব ও পুলিশি তৎপরতা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ফুগেওয়াড়ি এলাকায় বিষমদ পানের পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে এবং গত দুই দিনে শুধুমাত্র ফুগেওয়াড়িতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি পুণের হাদাপসার ও কালেপাদাল এলাকাতেও বিষমদের কারণে আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই চক্রের শিকড় খুঁজতে পুলিশি অভিযানে নেমে বেআইনি মদ বিক্রির এক বিশাল নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে। এই চক্রের মূল হোতা যোগেশ ওয়াংখেড়ে-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ধৃত যোগেশই ওই দুই এলাকায় বিষাক্ত এই মদ সরবরাহ করেছিল।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মদ পানের কিছুক্ষণের মধ্যেই আক্রান্তদের তীব্র বমি এবং পেটে মারাত্মক ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ফুগেওয়াড়ি এলাকায় আরও অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর পেছনে এই বিষমদের যোগ রয়েছে, যাদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসা বাকি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, শুরুতে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি।
এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনকে এই বেআইনি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের বিস্তৃতি কতটা, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরই মূল ধারায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
