লেটেস্ট নিউজ

বিস্ফোরক ফর্মের পর টানা ব্যর্থতা তবুও কেন অভিষেকের পাশেই দাঁড়িয়ে গৌতম গম্ভীররা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে যে নামটা ধুমকেতুর মতো উদয় হয়েছিল, তিনি অভিষেক শর্মা। ২২ গজে তাঁর বিধ্বংসী মেজাজ দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপিয়ে দেবেন এই তরুণ ওপেনার। কিন্তু টুর্নামেন্টের ‘বিজনেস এন্ডে’ এসে ছবিটা একেবারে উল্টো। যে বিধ্বংসী ফর্ম নিয়ে এক সময় চর্চা তুঙ্গে ছিল, আজ চার ম্যাচের টানা ব্যর্থতার পর সেই অভিষেককে নিয়েই উঠছে একরাশ প্রশ্ন। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে, সমালোচনার ঝড়ের মুখেও টিম ম্যানেজমেন্টের অটুট ভরসা পাচ্ছেন তিনি।

সুপার এইটের লড়াই এখন মরণ-বাঁচন পর্যায়ে। এই কঠিন সময়েও অভিষেককে আড়াল করতে মরিয়া কোচ গৌতম গম্ভীর এবং ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বাণে বিদ্ধ হতে হয়েছে ব্যাটিং কোচকে। সেখানে অভিষেকের অফ-ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারান কোটাক। তিনি সাফ জানান, “যখন অভিষেক ৪০-৫০ বলে সেঞ্চুরি করছিল, তখন তো কেউ এই প্রশ্নগুলো তোলেননি! এখন কয়েকটা ম্যাচে রান পায়নি বলে এত হইচই করার কী আছে?”

ভেতরের খবর বলছে, ড্রেসিংরুমে অভিষেকের ওপর থেকে মানসিক চাপ সরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত চার ম্যাচে কী হয়েছে তা ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। ব্যর্থতা ভুলে সম্পূর্ণ নতুন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কোচের বার্তা একটাই, “পিছনের দিকে তাকালে চাপ বাড়বে, জিম্বাবোয়ে ম্যাচ থেকেই শুরু হোক তোমার নতুন অভিষেক।”

অভিষেকের ব্যাটিং শৈলী নিয়েও ক্রিকেট মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকেই মনে করছেন, প্রথম বল থেকেই ‘মার-মার কাট-কাট’ মেজাজে ব্যাট করতে গিয়েই নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসছেন তিনি। কিছুটা রয়েসয়ে খেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। গৌতম গম্ভীররা চান অভিষেক তাঁর স্বাভাবিক ‘ফিয়ারলেস’ ক্রিকেটই খেলুক। ব্যাটিং কোচের মতে, “শুরুতে অভিষেকের শরীরটা একটু খারাপ ছিল, তাই ছন্দ পেতে সমস্যা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেও ওকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। স্রেফ কয়েকটা ভালো শটের অপেক্ষা, তার পরেই আপনারা সেই পুরোনো খুনে মেজাজের অভিষেককে ফিরে পাবেন।”

আসলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝে গিয়েছে, এই মুহূর্তে অভিষেকের ওপর বাড়তি প্রত্যাশার চাপ সৃষ্টি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে নয়, বরং গম্ভীরের দেওয়া ‘লাইসেন্স’ পকেটে নিয়ে অভিষেক কি পারবেন বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিজেকে প্রমাণ করতে? উত্তরের অপেক্ষায় ক্রিকেট প্রেমীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *