বীরভূমে পঞ্চায়েতের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ বিজেপির হাতে? তৃণমূলের বোর্ডে পদ্ম শিবিরের পছন্দেই চালক বদলের জল্পনা – এবেলা

বীরভূমে পঞ্চায়েতের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ বিজেপির হাতে? তৃণমূলের বোর্ডে পদ্ম শিবিরের পছন্দেই চালক বদলের জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশেষ সংবাদদাতা: বীরভূমের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক চিত্র সামনে এসেছে। খাতায়-কলমে জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি ও অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, ২০২৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত কোথায় কে নেতৃত্বের আসনে বসবেন—তার ‘রিমোট কন্ট্রোল’ নাকি রয়েছে বিজেপির হাতেই! স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের এই গুঞ্জনে এখন উত্তপ্ত অনুব্রত মণ্ডলের জেলা।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বীরভূমে একতরফা জয় পেয়েছিল তৃণমূল। অধিকাংশ জায়গাতেই বিরোধী প্রতিনিধিত্ব ছিল শূন্যের কোঠায়। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। একাধিক জায়গায় প্রধান ও সভাপতিদের পদত্যাগ কিংবা দলের অন্দরে অনাস্থা প্রস্তাবের ঘটনা সামনে আসছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে বীরভূম জেলা পরিষদে। সম্প্রতি সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ওঠার পর, ভোটাভুটির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। নতুন সভাধিপতি পদে বিকাশ রায় চৌধুরী বা নারায়ণ হালদারের নাম আলোচনায় এলেও, তাঁরা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই পদে তাঁদের বসানো নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

সূত্রের খবর, অনুব্রত ও কাজল—দুই গোষ্ঠীর থেকেই সমদূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূল নেতাদেরই নতুন মুখ হিসেবে সামনে আনতে চাইছে বিজেপি। জেলা পরিষদের তৃণমূল দলনেতা নবগোপাল বাউরীর মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “সভাধিপতি হিসেবে বিজেপি যাকে চাইবে, আমরা তাকেই সমর্থন করব।”

যদিও এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “যেখানে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব নেই, সেখানে কে কোন পদে বসবেন তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। রাজ্যে আইনের শাসন ফিরতেই তৃণমূল নেতারা নিজেদের দলেরই গোষ্ঠীকোন্দলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।”

তবে জেলা বিজেপিরই অন্য এক শীর্ষ নেতার মন্তব্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি জানান, “কে কোথায় বসবেন তা সব নির্দিষ্ট করা আছে, একে একে সবই বাস্তবায়িত হবে। কারণ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কাজ করতে চায় না।” ফলে প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও বীরভূমের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের রাশ যে পরোক্ষে বিজেপির হাতেই চলে গিয়েছে, সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *