বেকারদের জন্য বড় সুযোগ, বিনা ভাড়ায় সরকারি গোডাউন ও স্টলে ব্যবসার দারুণ সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য! – এবেলা

বেকারদের জন্য বড় সুযোগ, বিনা ভাড়ায় সরকারি গোডাউন ও স্টলে ব্যবসার দারুণ সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি গোডাউন এবং স্টলগুলিকে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের রোজগারের উৎসে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত পরিকাঠামো ব্যবহার করে যাতে বেকাররা স্বনির্ভর হতে পারেন, সেজন্য কোনো রকম ভাড়া ছাড়াই তাদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে। শনিবার বৈদ্যবাটি দিল্লি রোড সংলগ্ন নেতাজি সুভাষ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচার এবং মার্কেটিং দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের অফিসারদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ বিকাশ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অব্যবহৃত পরিকাঠামোকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সরকারি টাকায় নির্মিত বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামো বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সরকারি গোডাউন সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন বাজার এলাকায় থাকা মোট ১৬০০টি সরকারি স্টলের মধ্যে ৪৫০টি স্টল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা অব্যবহৃত। এমনকি অনেক মার্কেট তৈরি হয়ে গেলেও উদ্বোধনের অপেক্ষায় ৫-৭ বছর ধরে পড়ে রয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় এই পরিকাঠামো বিক্রি বা ভাড়া হচ্ছে না, সেগুলিকেই এবার বেকারদের কর্মসংস্থানের স্বার্থে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিনা ভাড়ায় এই সব জায়গায় ব্যবসা শুরু করার জন্য খুব শীঘ্রই বেকার যুবক, যুবতী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাছে আবেদন জানানো হবে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সুফল বাংলার সম্প্রসারণ

রাজ্যের এই পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ ও নগর স্তরে এক বিশাল অংশের বেকারদের স্থায়ী উপার্জনের পথ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অব্যবহৃত সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার হওয়ায় একদিকে যেমন সরকারি দপ্তরের নিজস্ব আয় ও কাজের পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এই বৈঠকেই ‘সুফল বাংলা’ স্টলগুলিকে আরও সফলভাবে পরিচালনা করার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে সবজি কিনে এই সমস্ত মার্কেটের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন কম দামে একদম টাটকা সবজি পাবেন, তেমনই চাষিরাও তাদের ফসলের সঠিক দাম পেয়ে লাভবান হবেন। দপ্তরের কর্মচারীদের সুষম বণ্টন ও কাজের সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমগ্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে চাইছে রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *