বেপাত্তা সুমিত রায়, এবার মাঝরাতে পুলিশের জালে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পলাশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ ও সিআইডি। এরই মধ্যে সুমিতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। হুগলির ব্যান্ডেলের বাসিন্দা পলাশ চক্রবর্তী নামের ওই যুবককে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট কারণে বা কোন থানার পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একটি সাদা গাড়িতে আসা পাঁচ পুলিশকর্মী তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
প্রাক্তন যুব নেতা শান্তনুর সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ
পলাশ নিজে শাসকদলের সক্রিয় কর্মী এবং শ্রীরামপুর কলেজের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রের খবর, সুমিত রায়ের পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সখ্য ছিল। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পলাশ মূলত রত্ন ও পাথরের ব্যবসা করেন। পাড়ায় শান্ত স্বভাবের বলে পরিচিত এই যুবক গত বছর স্থানীয় দুর্গাপুজোতেও বড় অঙ্কের স্পনসর করেছিলেন। কিন্তু আচমকা কোনও কারণ না জানিয়ে তাঁকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই আতঙ্কিত তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
আটকের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
জমি জালিয়াতি ও তোলাবাজির মামলায় মূল অভিযুক্ত সুমিত রায় এখনও পুলিশের অধরা। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ‘লুকআউট নোটিস’ জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আর্জিও খারিজ হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সুমিতের আত্মগোপন করে থাকার বিষয়ে পলাশ কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে সুমিত রায়ের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে যেমন পুলিশি তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে, তেমনই শাসকদলের অন্দরে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
