বেলেঘাটায় মর্মান্তিক! ভোটের ফল বেরোতেই তৃণমূল এজেন্ট খুন, ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে সরব কুণাল ঘোষ
ভোটের ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বেলেঘাটা। সোমবার সন্ধ্যায় ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কর্মী তথা বুথ এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে এলাকায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ফোন করে ডেকে বের করে দরজার সামনেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
পরিকল্পিত হামলা ও বহিরাগত যোগের অভিযোগ
বেলেঘাটার নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই খুনের ঘটনায় সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভোটের আগে দিল্লি থেকে আসা বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক বার্তার জেরেই এই রক্তপাত। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, এলাকার গুটিকয়েক বিজেপি কর্মীর সহায়তায় বিপুল পরিমাণ বহিরাগতদের এলাকায় ঢোকানো হয়েছে। এই বহিরাগতরাই মূলত এলাকা অশান্ত করা এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর নেপথ্যে রয়েছে। তিনি একে বিজেপির একটি ‘ক্যামোফ্লেজড’ বা ছদ্মবেশী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে উপরে শান্তির কথা বলা হলেও তলে তলে পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।
শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা ও প্রভাব
খুনের পাশাপাশি বেলেঘাটার একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। বিধায়কের মতে, স্থানীয় অনেক বিজেপি কর্মীও এই ধরণের হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এবং তাঁরাও তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই খুনের ঘটনায় নিহত বিশ্বজিতের তিন বছরের সন্তান ও পরিবার এখন অসহায়। এই নৃশংস হত্যার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরণের ভোট পরবর্তী হিংসা এলাকার সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে। পুলিশ আপাতত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে এবং অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
