ব্যথা পেলে বা বিপদে পড়লে সবার আগে ‘মা’ শব্দটাই কেন মনে আসে? জেনে নিন এর পেছনের বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিপদ, ভয় কিংবা আকস্মিক কোনো চোট—পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মানুষের মুখ থেকে অবলীলায় যে শব্দটি বেরিয়ে আসে তা হলো ‘মা’। বয়স বাড়লেও এই চিরন্তন অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হয় না। শুধু আবেগ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং ভাষাগত কারণ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শৈশব থেকে গড়ে ওঠা সুরক্ষা বলয় এবং মস্তিষ্কের বিশেষ গঠনের কারণেই সঙ্কটের মুহূর্তে মানুষ অবচেতনভাবে এই আশ্রয়কে খুঁজে নেয়।
নিরাপত্তার প্রথম উৎস ও মনস্তাত্ত্বিক টান
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, জন্মের পর একটি শিশুর কাছে মা-ই হলেন ভালোবাসা, স্বস্তি এবং নিরাপত্তার প্রধান উৎস। শৈশবে ক্ষুধা, ভয় কিংবা ব্যথার মুহূর্তে মায়ের কোলই শিশুকে শান্ত করে। এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মস্তিষ্কে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, ‘মা’ মানেই হলো নিরাপত্তা এবং কষ্ট থেকে মুক্তি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যখনই কোনো মানুষ বড় ধরনের মানসিক চাপ বা শারীরিক ব্যথার সম্মুখীন হয়, তখন তার অবচেতন মন মুহূর্তেই শৈশবের সেই নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যেতে চায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘রিগ্রেশন’ বলা হয়, যার ফলে মানুষ কঠিন সময়ে সবচেয়ে ভরসার মানুষকে স্মরণ করে।
ভাষাগত সহজবোধ্যতা ও শারীরবৃত্তীয় কারণ
মানুষের মুখে ‘মা’ ডাক আসার পেছনে ভাষাগত কারণও বেশ চমকপ্রদ। বিশ্বের অধিকাংশ ভাষায় মা শব্দটি উচ্চারণে ‘ম’ বা ‘আ’ ধ্বনি প্রাধান্য পায়। শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে দেখা যায়, ব্যথার সময় মানুষের মুখ থেকে স্বাভাবিকভাবেই ‘আহ’ জাতীয় শব্দ বের হয়। ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়াতেই এই ধ্বনি খুব সহজে ‘মা’ বা ‘আম্মা’ শব্দে রূপান্তরিত হয়। এছাড়া কথা বলা শেখার সময় শিশুরা সবথেকে সহজে এই শব্দটিই উচ্চারণ করতে পারে। ফলে তীব্র যন্ত্রণার মুহূর্তে জটিল কোনো শব্দের বদলে এই সহজ ও গভীর আবেগজড়িত শব্দটিই মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়ায় বেরিয়ে আসে।
