ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, কোন আসন ধরে রাখবেন ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু? – এবেলা

ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, কোন আসন ধরে রাখবেন ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্রেই জয়লাভ করার পর এখন বড় প্রশ্নের মুখে শুভেন্দু অধিকারী। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী দুটি আসনে জিতলে তাঁকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। বুধবার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে এই বিতর্ক ও জল্পনা প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপি নেতা। শুভেন্দু সাফ জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সিদ্ধান্তের ভার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে

নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় শুভেন্দু জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তাঁকে যেকোনো একটি আসন থেকে ইস্তফা দিতে হবে। তবে কোন আসনটি তিনি ত্যাগ করবেন, তা সম্পূর্ণভাবে দলের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সব সিদ্ধান্ত একা নিতে পারি না। আমার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ, তাই দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের গড় ভবানীপুরে পরাজিত করায় সেই আসনটি ধরে রাখার সম্ভাবনা প্রবল শুভেন্দুর, সেক্ষেত্রে নন্দীগ্রাম ছাড়তে হতে পারে তাঁকে।

নন্দীগ্রামের উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ শুভেন্দু

আসন ছাড়ার জল্পনার মাঝেই নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি নন্দীগ্রাম ও হলদিয়াকে সংযুক্ত করার পাশাপাশি গোকুলনগর হাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং ছয় মাসের মধ্যে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বছরের প্রতিটি উৎসব এবং স্মরণীয় দিনগুলোতে তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ

শুভেন্দু অধিকারীর জোড়া জয় এবং বিশেষ করে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার পর রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নন্দীগ্রামে এদিন কর্মী-সমর্থকদের মধ্য থেকে তাঁকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দেখার দাবিও ওঠে। এখন দেখার বিষয়, বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দুকে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে রেখে রাজ্যে বড় কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব দেয় কি না। শুভেন্দু অবশ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, জয়ী হওয়ার পর তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে মন্দিরগুলোর সংস্কার এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *