ভবানীপুরে কি মমতার মুখোমুখি শুভেন্দু? সুকান্তর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ওলটপালট বঙ্গ রাজনীতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রে কি তাঁরই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করতে চলেছে বিজেপি? রবিবার ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযানে গিয়ে সুকান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দল চাইলে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিজয় রথ থামাতে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন স্বয়ং বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দুই কি তুরুপের তাস? সুকান্তর আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার
এ দিন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন সুকান্ত মজুমদার। পদ্মফুল এঁকে দেওয়াল লিখন ও জনসংযোগের মাঝে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি। সুকান্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি এখান থেকে ভোটে দাঁড়ান, তবে আমাদের প্রার্থী কে হবেন তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বই ঠিক করবে। যদি দল মনে করে শুভেন্দুদা এখানে লড়াই করার জন্য যোগ্যতম মুখ, তবে তিনিই প্রার্থী হবেন।”
এখানেই থেমে থাকেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি আরও যোগ করেন, “শুভেন্দুদা লড়ুন বা আমাদের কোনও সাধারণ কর্মী, এমনকি আমাদের মণ্ডল সভাপতি দাঁড়ালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পরাজিত হবেন। আমরা তাঁকে রাজনৈতিক সন্ন্যাসে পাঠানোর জন্য কোমর বেঁধে নেমেছি।”
নন্দীগ্রামের পর কি এবার ভবানীপুর জয়ের লক্ষ্য শুভেন্দুর?
বিজেপির এই রণকৌশল অবশ্য রাজনৈতিক মহলে নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী নিজে হুঙ্কার দিয়েছেন যে, তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন এবং এবার ভবানীপুরেও একই ফলের পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই বর্তমানে বিজেপি সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বারবারই বলছেন, “২০ হাজার ভোটে হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে ছাড়ব।” ফলে সুকান্তর রবিবারের মন্তব্য সেই লড়াইয়ের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল।
‘নিরাপদ আসন খুঁজছেন শুভেন্দু’, কড়া পাল্টা দিল তৃণমূল
বিজেপির এই হেভিওয়েট লড়াইয়ের তত্ত্বকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন, শুভেন্দু অধিকারী আসলে নিজের পায়ের তলার মাটি হারিয়ে ফেলছেন। কুণালের কথায়, “নন্দীগ্রাম থেকেই এবার শুভেন্দুর জেতা আসাম্ভব। সেখানকার মানুষের ক্ষোভ এবং প্রতিকূল হাওয়া বুঝতে পেরেই এখন অন্য নিরাপদ আসনের খোঁজে উনি এবং ওঁর দল এই সব গালগল্প ফাঁদছেন।” তৃণমূলের দাবি, ভবানীপুরের মানুষ তাঁদের ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন এবং কোনও ‘বহিরাগত’ বা ‘গদ্দার’ তত্ত্বে সেখানে কাজ হবে না।
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পটভূমি তৈরি
২০২১ সালের নন্দীগ্রামের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের স্মৃতি আজও বাংলার মানুষের মনে টাটকা। এবার কি তার মহড়া দেখা যাবে কলকাতার বুকেই? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি যদি সত্যিই শুভেন্দুকে ভবানীপুর থেকে দাঁড় করায়, তবে তা হবে এই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক লড়াই। একদিকে যেমন গেরুয়া শিবির চাইছে খাস তালুকে মুখ্যমন্ত্রীকে কোণঠাসা করতে, অন্যদিকে তৃণমূল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে ভবানীপুর ফের দু’হাত ভরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আশীর্বাদ করবে।
লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং শুভেন্দু সত্যিই ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

