ভবানীপুরে কি হারের মুখে মুখ্যমন্ত্রী? বোরখা ও বাংলাদেশি স্লোগান বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রামের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের পর এবার ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দুর মতে, নিজের খাসতালুক ভবানীপুরেও এবার হারের মুখ দেখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বিস্ফোরক অভিযোগ ও মেরুকরণের রাজনীতি
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ভবানীপুরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ‘বাংলাদেশি স্লোগান’ শোনা যাচ্ছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এখানেই শেষ নয়, তিনি দাবি করেছেন যে পরিচয় গোপন করে ভুয়ো ভোট দেওয়ার জন্য ‘বোরখা’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার কার্ড যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
পাল্টা চাপে শাসক শিবির
বিরোধী দলনেতার এই আক্রমণাত্মক বার্তার পর পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই শুভেন্দু অধিকারী সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আশ্রয় নিচ্ছেন। ভবানীপুরের মানুষ ঘরের মেয়ের সঙ্গেই আছেন এবং এই ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই বিতর্কের ফলে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বিভাজন তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতে চলেছে। শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর দাবি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে সফল হবে নাকি এটি কেবলই নির্বাচনী কৌশল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। আপাতত ভবানীপুরের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।
এক ঝলকে
ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নির্বাচনে ‘বোরখা’ ব্যবহার করে ভুয়ো ভোট এবং বাংলাদেশি স্লোগান দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবিকে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা এবং ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখান করেছে।
৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই এই রাজনৈতিক বিতর্কের চূড়ান্ত অবসান ঘটবে।
