ভবানীপুরে গণনার শুরুতেই টানটান উত্তেজনা, এজেন্টদের প্রবেশ ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী সকালে পশ্চিমবঙ্গের নজর এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল গণনাকেন্দ্রে ভোটগণনা শুরু হতেই তৃণমূল ও বিজেপি প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এই হাইভোল্টেজ লড়াইকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গণনাকেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ।
এজেন্টদের প্রবেশ ও নথিপত্র ঘিরে বিতর্ক
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের ফাইল ও কলম নিয়ে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল প্রতিনিধিদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিতে বাধা দিচ্ছে, অথচ বিজেপি এজেন্টরা নির্বিঘ্নে সবকিছু নিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন। এক তৃণমূল প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোক বলেই কি আমাদের এই বাধা? নিয়ম তো সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।” অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তৃণমূল এজেন্টরা বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই ঢোকার চেষ্টা করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন।
নিরাপত্তার চাদরে ভবানীপুর ও ফালতা বিতর্ক
গণনাকেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৩টি আসনের গণনা চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফালতা আসনে নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগে ভোট বাতিল হওয়ায় সেখানে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। ফলে সরকার গড়ার ‘ম্যাজিক ফিগার’ ১৪৮ থেকে কমে ১৪৭-এ দাঁড়িয়েছে। ভবানীপুরের এই লড়াই শুধু একটি আসনের নয়, বরং রাজ্যের প্রধান দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মর্যাদার লড়াই হওয়ায় প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দুই শিবিরই। নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি ড্রোন নজরদারির ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে।
