ভয় ধরাচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’, খরা ও বন্যার জোড়া সংকটে পড়তে পারে দেশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে তীব্র রূপ নিতে চলেছে ‘সুপার এল নিনো’। আবহাওয়া দফতরের এই পূর্বাভাসে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের উপরিভাগ অস্বাভাবিক মাত্রায় উষ্ণ হয়ে ওঠার এই প্রক্রিয়ার কারণে একদিকে যেমন তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই আবার কিছু অঞ্চলে দেখা দিতে পারে প্রলয়ঙ্করী বন্যা। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারতের সব প্রান্তে আবহাওয়া একরকম থাকবে না। কোথাও বৃষ্টির ঘাটতি জনজীবন বিপর্যস্ত করবে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির জেরে ভাসবে লোকালয়।
খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে বিস্তীর্ণ এলাকা
সুপার এল নিনোর সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য অঞ্চলে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম হবে। রাজধানী দিল্লি ও তৎসংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলে চলমান গরম থেকে বর্ষাতেও মিলবে না নিষ্কৃতি। কলকাতা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গেও কম বৃষ্টির কারণে তাপপ্রবাহ এবং লু বইবার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে খরার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যা কৃষিক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, জবলপুর ও সাগরসহ বিস্তীর্ণ অংশে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিহীন দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাওয়া এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে বিপরীত ছবি ও বন্যার শঙ্কা
দেশের সিংহভাগ যখন জলের অভাবে শুকোবে, ঠিক তখনই বিপরীত সংকটের মুখোমুখি হতে পারে দক্ষিণ ভারত। বিশেষ করে চেন্নাই এবং তামিলনাড়ুতে এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অতীতেও শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে এই অঞ্চলে রেকর্ড সৃষ্টিকারী বন্যা দেখা দিয়েছিল।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১৫-২০১৬ সালের সুপার এল নিনোর সময় মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে যেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, ঠিক সেই সময়েই চেন্নাই শহর টানা কয়েকদিন বন্যার জলে ডুবেছিল। সেবার বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল স্বাভাবিক জনজীবন। আবহাওয়ার এই চরম খামখেয়ালিপনা এবারও ভারতের অর্থনীতি, কৃষি এবং পরিকাঠামোর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
