ভাগ্নের সঙ্গে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় শাশুড়িকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ গৃহবধূর বিরুদ্ধে

উত্তরপ্রদেশের কাকোরি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ভাগ্নের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নিজের শাশুড়িকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিলার নাম শালিনী এবং তার প্রেমিক তথা ভাগ্নের নাম করণ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মামীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ভাগ্নে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া ও বিরোধ

তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের ভাগ্নে করণ সম্প্রতি ইরাক থেকে ফিরে আসার পর তার মামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি শাশুড়ি শান্তি দেবী জেনে ফেলেন এবং তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। প্রেমের পথে কাঁটা সরাতেই মামী ও ভাগ্নে মিলে শান্তি দেবীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

দুইবার বিষ প্রয়োগের চেষ্টা

অভিযুক্ত শালিনী তার শাশুড়িকে হত্যার জন্য একের পর এক ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ নেয়।

  • প্রথম চেষ্টা: ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অভিযুক্ত মহিলা তার শাশুড়ির চায়ের কাপে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাদ খারাপ হওয়ায় বৃদ্ধা সেই চা ফেলে দেন, ফলে সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান।
  • চূড়ান্ত হামলা: প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর শালিনী রুটির মধ্যে কীটনাশক মিশিয়ে শাশুড়িকে খেতে দেয়। গত ৫ এপ্রিল সেই বিষাক্ত রুটি খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্তি দেবী।

যেভাবে ফাঁস হলো খুনের রহস্য

প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করে দেহটি সমাধিস্থ করেছিলেন। কিন্তু শান্তি দেবীর ছেলে মনোজ রাওয়াতের মনে সন্দেহ জাগে। ওই দিন শান্তি দেবী রুটি খাওয়ার সময় তা ‘তেতো’ লাগছে বলে অভিযোগ করেছিলেন এবং প্রবল বমি করতে শুরু করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ঘর থেকে ফয়েল পেপারে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক রুটির টুকরো পাওয়া গেলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরিস্থিতি বিচারে এলাকায় পঞ্চায়েত ডাকা হলে জানা যায়, শালিনী আগেই স্থানীয় স্তরে কীটনাশক সংগ্রহ করেছিল। লাগাতার জেরার মুখে শালিনী তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়।

পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

মৃতার ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে কাকোরি থানার পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কবর থেকে দেহ উত্তোলন করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানোর পাশাপাশি ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ডিসিপি (পশ্চিম) কমলেশ দীক্ষিত জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শালিনীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে নিজের দোষ কবুল করেছে। পলাতক ভাগ্নে করণের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

এক ঝলকে

  • ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু: উত্তরপ্রদেশের কাকোরি এলাকা।
  • মূল অভিযুক্ত: মামী শালিনী ও তার ভাগ্নে করণ।
  • খুনের পদ্ধতি: রুটির সঙ্গে বিষ (কীটনাশক) মিশিয়ে খাওয়ানো।
  • কারণ: অবৈধ সম্পর্কে শাশুড়ির বাধা হয়ে দাঁড়ানো।
  • বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত মামী শ্রীঘরে, পলাতক ভাগ্নের খোঁজে তল্লাশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *