ভাড়াবাড়িতে থরে থরে স্কুল ড্রেস ও শাড়ি! গ্রেপ্তার ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল কাউন্সিলর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তমলুক: তমলুক পুরসভার প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর কানাইলাল দাসকে মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। একদিকে ডজন খানেক নার্সিংহোমের মালিকানা, অন্যদিকে তাঁর গোপন ভাড়াবাড়িতে উদ্ধার হওয়া রাশি রাশি স্কুল ড্রেস ও শাড়ি ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঠিক কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা পুলিশের তরফে এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
ভাড়াবাড়িতে কীসের কারবার?
সম্প্রতি কোলাঘাটে শুভেন্দু অধিকারীর সভার দিনই কানাইলাল দাসের একটি ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। আর সেই ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে প্রচুর স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক এবং শাড়ি। অন্য একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় গুচ্ছ গুচ্ছ সরকারি ত্রিপল ও ধুতি! একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাড়াবাড়িতে এসব কেন মজুত করা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এলাকায় নেতার ‘একচ্ছত্র’ দাপট:
স্থানীয় সূত্রে খবর, কানাইলাল দাস তমলুক এলাকায় রীতিমতো দাপুটে নেতা। তাঁর প্রভাব এতটাই যে:
- তিনি একাই প্রায় ১০ থেকে ১৫টি নার্সিংহোমের মালিক।
- এলাকার নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের ‘অলিখিত সভাপতি’ হিসেবেও পরিচিত তিনি।
- তৃণমূলের স্থানীয় সাংগঠনিক যেকোনো সিদ্ধান্তেও তাঁর কথার বড়সড় গুরুত্ব ছিল।
কী কারণে গ্রেপ্তার?
মঙ্গলবার সকালে পুলিশের একটি বড় দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। প্রথমে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে পুলিশ মুখে কুলুপ আঁটলেও, স্থানীয় একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক এলাকাবাসীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরেই এই গ্রেপ্তার কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।
