ভারত-ইইউ চুক্তি: সুরাপ্রেমীদের জন্য বাম্পার অফার! ব্যাপক কমতে চলেছে বিদেশি ব্র্যান্ডের দাম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি পার্টি প্রেমীদের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে। এতদিন পর্যন্ত বিদেশি মদ (Imported Liquor) কিনতে গেলে আকাশছোঁয়া দাম দেখে অনেককেই পিছিয়ে আসতে হতো। এর প্রধান কারণ ছিল আমদানিকৃত মদের ওপর চড়া হারে অর্থাৎ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক (Import Duty) ধার্য করা।
তবে নতুন এই চুক্তির ফলে সুরাপ্রেমীদের সেই দুশ্চিন্তার দিন শেষ হতে চলেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াইন এবং হুইস্কির ওপর আমদানিশুল্ক ১৫০% থেকে কমিয়ে মাত্র ৪০%-এ নামিয়ে আনা হবে। একইভাবে, বিয়ারের ওপর শুল্ক ১১০% থেকে কমিয়ে ৫০% করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের মদের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়া নিশ্চিত।
বিয়ারের বোতলে কত সাশ্রয় হবে?
উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি ‘হাইনেকেন’ (Heineken) বিয়ারের বোতলের দাম আগে ৩,০০০ টাকা হতো, তবে তার অর্ধেকের বেশি টাকা চলে যেত সরকারি ট্যাক্স মেটাতে। এখন নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই একই বোতল আনুমানিক ২,০০০ টাকায় পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সরাসরি ১,০০০ টাকা সাশ্রয় হবে। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি এবং ডেনমার্ক থেকে আসা নামী ব্র্যান্ডের বিয়ারগুলো এখন মধ্যবিত্তের নাগালে চলে আসবে।
ভদকা ও ওয়াইন প্রেমীদের পোয়াবারো
শুধু বিয়ার নয়, সুইডেনের বিখ্যাত ‘অ্যাবসোলুট ভদকা’ (Absolut Vodka)-র দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। আগে যে বোতলের দাম ছিল ৪,০০০ টাকা, তা এখন ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে, ফ্রান্সের ওয়াইন যা আগে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হতো, তার দাম ১,২০০ টাকায় নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পর্যায়ক্রমে এই দাম আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কোন কোন ব্র্যান্ডের আধিপত্য বাড়বে?
ইউরোপের ২৭টি দেশ বর্তমানে বিশ্বের সেরা মানের মদ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। চুক্তির ফলে ভারতীয় বার এবং শপগুলোতে এখন বেলজিয়ামের ‘স্টেলা’ (Stella), আয়ারল্যান্ডের ‘গিনেস’ (Guinness) এবং ফ্রান্সের বিলাসবহুল ‘মোয়েট শ্যাম্পেন’ (Moët Champagne)-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাবে। দাম কমলে এই ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশীয় ব্র্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
বিদেশি ব্র্যান্ডের দাম কমলে কিংফিশারের মতো ভারতীয় দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। গুণমান এবং দামের লড়াইয়ে এখন বৈশ্বিক কো ম্পা নিগুলোর সাথে টক্কর দিতে হবে দেশীয় উৎপাদনকারীদের। বাজারের দখল বজায় রাখতে দেশীয় সংস্থাগুলোকে এখন বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে।

