ভারত-ইরান মৈত্রীর মূলে অভিন্ন আর্য সংস্কৃতি ও ধর্মীয় উত্তরাধিকার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারত ও ইরানের আধুনিক ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও, চার হাজার বছরের ইতিহাস দুই দেশের অভিন্ন শিকড়ের কথা বলে। ইতিহাসবিদদের মতে, রাশিয়া থেকে আগত আর্যরাই কালক্রমে প্রোটো-ইরানীয় ও প্রোটো-ইন্দো-আর্য গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাচীন পারস্যের ‘আহুর’ এবং বেদের ‘অসুর’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত মিল এবং উভয় সংস্কৃতিতে অগ্নি উপাসনার প্রাধান্য এই প্রাচীন ভ্রাতৃত্বের অকাট্য প্রমাণ।
ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। প্রাচীন পারসিক গ্রন্থ ‘জেন্দ আবেস্তা’ এবং ভারতীয় ‘ঋকবেদ’-এর শ্লোক ও ছন্দে অবিশ্বাস্য মিল পাওয়া যায়। এমনকি ‘ইরান’ নামটি ‘আর্য’ শব্দ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। পারস্যে ইসলামের প্রসারের পর বহু জরথ্রুষ্টীয় ধর্মাবলম্বী ভারতে আশ্রয় নেন, যারা বর্তমানে পারসি সম্প্রদায় হিসেবে ভারতের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান রাখছেন।
বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারত ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রাচীন সেই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের পথ ধরেই এগিয়ে চলছে। হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত এলাকায় ভারতীয় জাহাজ চলাচলে তেহরানের সহযোগিতা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন। প্রাচীন সিল্ক রুট থেকে আধুনিক বাণিজ্য—চিকিৎসা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে দুই দেশের এই চার সহস্রাব্দের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজও প্রাসঙ্গিক।

