ভারতীয় আইটি সেক্টরে অশনি সংকেত! সরাসরি পরিষেবা দিতে নামছে ওপেনএআই, ঘোর সংকটে কয়েক লক্ষ চাকরি – এবেলা

ভারতীয় আইটি সেক্টরে অশনি সংকেত! সরাসরি পরিষেবা দিতে নামছে ওপেনএআই, ঘোর সংকটে কয়েক লক্ষ চাকরি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কৃত্রিম মেধার (AI) লড়াই এবার এক নতুন এবং উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেকের মতো ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলো বিশ্ববাজারে যে আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তা এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। এতদিন চ্যাটজিপিটি বা ক্লড-এর মতো এআই মডেল তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক এখন সরাসরি আইটি পরিষেবা প্রদানের ব্যবসায় নামার ঘোষণা দিয়েছে।

এতদিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই মডেলগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা পরিষেবা তৈরির জন্য ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করত। কিন্তু এখন এই সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। এআই নির্মাতা সংস্থাগুলো নিজেরাই সরাসরি ক্লায়েন্টদের কনসাল্টিং, অটোমেশন এবং এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশনের মতো পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় আইটি খাতের আয়ের প্রধান উৎসগুলোতে ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরাসরি সেবায় নামছে নতুন বিশেষায়িত বিভাগ

ওপেনএআই ইতিমধ্যেই ‘দ্য ডিপ্লয়মেন্ট কো ম্পা নি’ (The Deployment Company) নামে একটি পৃথক শাখা গঠন করেছে। পিছিয়ে নেই অ্যানথ্রোপিকও। এই বিভাগগুলো মূলত এআই ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন, এন্টারপ্রাইজ এআই ইন্টিগ্রেশন এবং স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের মতো জটিল কাজগুলো সরাসরি সম্পাদন করবে। যেখানে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলো বহু কর্মী নিয়োগ করে ধাপে ধাপে কাজগুলো করত, সেখানে এআই সংস্থাগুলো মাত্র ৫-৬টি প্রধান বিভাগের মাধ্যমে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ সমাধান দেবে। খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, দ্রুত বাজার ধরতে তারা অভিজ্ঞ আইটি ইঞ্জিনিয়ার ও কনসালট্যান্টদের নিয়োগ করার পাশাপাশি ছোট কিছু আইটি ফার্ম কিনে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে।

প্রথাগত ব্যবসায়িক মডেলে বড় আঘাত

ভারতীয় আইটি শিল্পের মূল ভিত্তি হলো ‘রিসোর্স-বেসড’ বা জনবল ভিত্তিক মডেল। অর্থাৎ, যত বেশি কর্মী কাজ করবেন এবং যত বেশি ঘণ্টা ব্যয় হবে, কো ম্পা নির আয় তত বাড়বে। কিন্তু এআই এজেন্টের আগমনে এই মডেলটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যে কাজ করতে শত শত ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হতো, এআই এখন তা কয়েক সেকেন্ডে সম্পন্ন করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০০ সালের আউটসোর্সিং বিপ্লব ভারতকে আইটি-র বিশ্বমঞ্চে বসিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানের এই ‘এআই বিপ্লব’ সেই অবস্থানকে আমূল বদলে দিতে পারে। বিপিও, সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স এবং আইটি সাপোর্টের মতো প্রথাগত খাতগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমে আসায় ভারতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন টিকে থাকার কঠিন লড়াই শুরু হয়েছে। যথাযথ রূপান্তর ঘটাতে না পারলে ইনফোসিস বা টিসিএস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *