ভারতে বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ছক বানচাল, নেপথ্যে দাউদের ডান হাত মুন্না – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজধানী দিল্লি, মুম্বইসহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড়সড় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার এক ভয়ঙ্কর ছক বানচাল করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। আইএসআই এবং দাউদ ইব্রাহিমের মদতপুষ্ট একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী মডিউল ফাঁস করার পর তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, এই পুরো ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করছিল মুম্বই আন্ডার ওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত বন্দুকবাজ এবং দাউদ ইব্রাহিমের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ডান হাত বলে পরিচিত মুন্না ঝিঙ্গাড়া।
করাচি থেকে ছক ও আন্তর্জাতিক চক্র
তদন্তকারীদের সূত্র অনুযায়ী, এই পুরো চক্রটি পাকিস্তান থেকে চার জন প্রধান চক্রীর নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। এরা হল মুন্না ঝিঙ্গাড়া ওরফে সৈয়দ মুদাসসর হোসেন, দিলাওয়ার খান, শাহজাদ ভাট্টি এবং আমির জাট। বর্তমানে এরা সকলেই পাকিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। ধৃত অপরাধীদের জেরা করে জানা গেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং ডি-কো ম্পা নির যৌথ মদতে করাচি থেকে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল মুন্না। মুম্বইয়ের যোগেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা এই মুন্না দীর্ঘদিন ধরে দাউদ এবং ছোটা শাকিলের হিটম্যান হিসেবে কাজ করেছে। নিখুঁত নিশানা ও গুলি চালানোর দক্ষতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মূল করতে দাউদ তাকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করত। এই মডিউলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার দায়িত্বে ছিল নেপালের নাগরিক ‘লামা আং কামি’, যার সঙ্গে থাইল্যান্ডের কারাগারে থাকার সময় মুন্নার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
হামলার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারীদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশে এক চরম অস্থিতিশীল ও ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই আন্তর্জাতিক মডিউলের মূল উদ্দেশ্য। দিল্লি পুলিশের সময়োপযোগী এই অভিযানের ফলে দেশের মেগা শহরগুলিতে সম্ভাব্য এক রক্তক্ষয়ী বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই মডিউলটি যেভাবে নেপাল ও থাইল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল, তা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীর এই মেলবন্ধন দেশের নিরাপত্তার জন্য আগামী দিনে অত্যন্ত বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
