লেটেস্ট নিউজ

ভারতের নতুন জিডিপি সিরিজ প্রকাশ, ২০২৪-২৫ সালে মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক চমক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে এক আমূল পরিবর্তন আনল পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI)। দীর্ঘ এক দশক পর জিডিপির ভিত্তি বছর (Base Year) ২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গণনায় যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনই আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে যাবে দেশীয় পরিসংখ্যান।

কেন এই পরিবর্তন এবং কী এর গুরুত্ব

২০১১ সালের পর থেকে ভারতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিকাঠামো গত বদল এসেছে। বিশেষ করে জিএসটি (GST) এবং কর্পোরেট ফাইলিংয়ের (MCA) মতো ডিজিটাল ডেটা এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। কোভিড পরবর্তী প্রথম স্বাভাবিক বছর হিসেবে ২০২২-২৩ সালকে বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে তথ্যগত কোনো বিভ্রান্তি না থাকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের (IMF) ২০১৭ সালের নির্দেশিকা মেনেই এই নতুন পরিমাপ পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির হার

নতুন ভিত্তি বছর অনুযায়ী দেশের অর্থনীতির আকার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট।

  • ২০২২-২৩ (ভিত্তি বছর): ২৬১.১৮ লক্ষ কোটি টাকা।
  • ২০২৩-২৪: ২৮০.০১ লক্ষ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ৭.২%)।
  • ২০২৪-২৫: ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ৭.১%)।

চলতি অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভারতীয় অর্থনীতি ৭.৮% হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪.৫৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সেক্টর অনুযায়ী উন্নয়নের হালহকিকত

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার নিম্নরূপ:

  • প্রাথমিক ক্ষেত্র (কৃষি ও সংশ্লিষ্ট কাজ): ৪.৯%
  • দ্বিতীয় ক্ষেত্র (শিল্প, নির্মাণ ও খনি): ৮.০%
  • পরিষেবা ক্ষেত্র: ৭.৯%ম্যানুফ্যাকচারিং এবং রিয়েল এস্টেট খাতের চোখধাঁধানো উন্নতিই এই প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হিসেবে উঠে এসেছে।

মাথাপিছু আয় ও সঞ্চয়ে বড় লাফ

সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, তার বড় প্রমাণ মাথাপিছু আয়।

  • ২০২২-২৩ সালে যা ছিল ১,৫৯,৫৫৭ টাকা।
  • ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,৭৬,৪৬৫ টাকা।
  • ২০২৪-২৫ সালে তা পৌঁছেছে ১,৯২,৭৭৪ টাকায়।

এর পাশাপাশি দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও ব্যাপক বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালে মোট সঞ্চয় ১১১.১৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৯৫.১৭ লক্ষ কোটি টাকা। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অভাবনীয় গতি।

নতুন এই সিরিজের ফলে বিনিয়োগকারী এবং নীতিনির্ধারকরা এখন ভারতের বাজার সম্পর্কে আরও সঠিক ধারণা পাবেন। অর্থনীতির এই তেজি ভাব আগামী দিনে কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *