লেটেস্ট নিউজ

ভার্টিগো কেন হয়? জেনে নিন লক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হঠাৎ কি মনে হয় আপনার চারপাশের পৃথিবীটা বনবন করে ঘুরছে? দাঁড়াতে বা বসতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার ভয়ে আঁতকে উঠছেন? তবে এটি ‘ভার্টিগো’ (Vertigo) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কেবল সাধারণ মাথা ঘোরা নয়, বরং শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার একটি বিশেষ অবস্থা। বয়স নির্বিশেষে বর্তমানে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। কেন এই সমস্যা হয়? এর লক্ষণগুলোই বা কী? ওষুধ খাওয়ার আগে আমাদের কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ভার্টিগো কী এবং কেন হয়?

ভার্টিগো নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার উপসর্গ মাত্র। আমাদের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্তকর্ণ (Inner Ear) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে থাকা ক্ষুদ্র ক্যালসিয়াম কণা স্থানচ্যুত হলে বা কোনো সংক্রমণের কারণে মস্তিষ্কে পৌঁছানো সংকেতগুলোতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘বিপিপিভি’ (BPPV) বলা হয়। আপনি কি জানেন? চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহারের সময় ঘাড় নিচু করে রাখার ফলেও ভার্টিগোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

শনাক্ত করার লক্ষণসমূহ

ভার্টিগো হলে কেবল মাথা ঘোরাই নয়, আরও কিছু শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
  • কানে অদ্ভুত শব্দ হওয়া বা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা।
  • মাথা এদিক-ওদিক ঘোরালে সমস্যা আরও তীব্র হওয়া।

এই অবস্থায় হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গাড়ি চালানোর সময় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় এই সমস্যা দেখা দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে এর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।

প্রতিকার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

প্রাথমিক পর্যায়ে ভার্টিগো শনাক্ত করা গেলে ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং হঠাৎ করে মাথা না ঘোরানোর মাধ্যমে আরাম পাওয়া যায়।

বিশেষ সতর্কবার্তা: উপরে দেওয়া তথ্যগুলো কেবল সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। আপনার যদি ঘনঘন মাথা ঘোরার সমস্যা থাকে, তবে তা হৃদরোগ বা স্নায়বিক সমস্যার সংকেতও হতে পারে। তাই কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *