ভুয়া চিকিৎসকের হাতে ছানি অপারেশন, দৃষ্টি হারালেন বৃদ্ধ! সিল করা হলো নার্সিংহোম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই দিব্যি চলছিল চক্ষু হাসপাতাল। কিন্তু ভুল চিকিৎসায় এক বৃদ্ধের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির কুকাই এলাকার সেই বেসরকারি হাসপাতালটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
নারায়ণগড়ের বাসিন্দা বৃদ্ধ সুধীর কোটালের অভিযোগ, গত ২ নভেম্বর ছানি অপারেশনের নামে তাঁর থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেখানে ছিলেন না। অস্ত্রোপচারের পরেই তাঁর বাম চোখের দৃষ্টি চলে যায়। অভিযোগ পেয়ে রবিবার জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি বিশেষ দল হাসপাতালটিতে ঝটিকা অভিযান চালায়। তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালের খাতায় ‘ডি ঘোষ’ নামে এক চিকিৎসকের নাম থাকলেও বাস্তবে ওই নামের কোনো ডাক্তারের অস্তিত্বই নেই! এমনকি অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ও ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টের একাধিক নিয়মও লঙ্ঘন করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গি জানিয়েছেন, আপাতত হাসপাতালটি পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার জন্য ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে মালিক দিলীপ দাসকে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত বৃদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য স্বাস্থ্য কমিশনকে জানানো হয়েছে।
“বাবার চোখ যারা নষ্ট করল, তাদের কঠোর শাস্তি চাই,” এই দাবি জানিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৃদ্ধের ছেলে সমরেশ কোটাল। আপাতত জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এই কড়া পদক্ষেপের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

