ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা ২৩৫ ছাড়াল, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কারাকাস: মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির উত্তরাঞ্চলে গত কয়েক ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সরকারিভাবে অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ও কারণ:
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম কম্পনটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। রাজধানী কারাকাস থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে মরোন শহরের কাছে ছিল এদের উৎপত্তিস্থল। ভূপৃষ্ঠের অগভীর অংশে এই জোড়া কম্পন সৃষ্টির ফলেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নজিরবিহীন। উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১৯৯৯ সালেও এক বিধ্বংসী ধসে বহু প্রাণহানি ঘটেছিল।
বিদ্যুৎহীন কারাকাস, ব্যাহত উদ্ধারকাজ:
রাজধানী কারাকাসে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। প্রশাসন পাতাল রেল পরিষেবা স্থগিত করেছে এবং সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লা গুয়াইরার প্রধান বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ পৌঁছাতে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছেন।
ত্রাণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা:
- জরুরি অবস্থা: প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং ২০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছেন।
- নিষেধাজ্ঞা শিথিল: মানবিক বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে।
- আন্তর্জাতিক সাড়া: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মেক্সিকো, কাতার, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল ও কানাডা থেকে আধুনিক ড্রোন, প্রশিক্ষিত কুকুর স্কোয়াড এবং চিকিৎসা সরঞ্জামসহ উদ্ধারকারী দল পাঠানো শুরু হয়েছে।
- সোশ্যাল মিডিয়া: উদ্ধারকাজ সহজ করতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা আগে থেকেই তীব্র অর্থনৈতিক ও মুদ্রাস্ফীতির সংকটে ভুগছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প ডেলসি রদ্রিগেজ প্রশাসনের সামনে এক পর্বতসমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কত দ্রুত দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশটির টিকে থাকা।
