ভেনেজুয়েলার মৃত্যুমিছিলের মাঝেই ৭.২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে উঠল জাপান। বৃহস্পতিবার সকালে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইওয়াতে উপকূলের কাছে ৭.২ মাত্রার একটি তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই কম্পনের প্রভাব রাজধানী টোকিও পর্যন্ত অনুভূত হলেও স্বস্তির খবর হলো, আপাতত বড় ধরনের কোনও সুনামির আশঙ্কা নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা এবং জাপানের এই দুই ভূমিকম্পের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই।
কী পরিস্থিতি জাপানে?
জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (JMA) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। শুরুতে এর মাত্রা ৬.৯ বলা হলেও, পরে তা সংশোধন করে ৭.২ করা হয়।
- আতঙ্কিত মানুষ: কম্পনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হাশিকামি শহরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলগুলোতে কম্পন শুরু হওয়ামাত্রই শিক্ষিকারা ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে তড়িঘড়ি টেবিলের নীচে আশ্রয় নিচ্ছেন।
- নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ: সতর্কতা হিসেবে সাময়িকভাবে বুলেট ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। তবে ফুকুশিমাসহ দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
- সুনামি সতর্কতা: সমুদ্রতলের গঠন এবং কম্পনের গভীরতা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনও সুনামির ঝুঁকি নেই। তবে আফটারশকের সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মৃত্যুপুরী ভেনেজুয়েলা!
জাপানে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির উপকূলবর্তী এলাকায় পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের (USGS) প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই জোড়া কম্পনের জেরে ভেনেজ়ুয়েলায় প্রায় ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
কেন বারবার কাঁপছে জাপান?
ভৌগোলিক দিক থেকে জাপান পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ (Pacific Ring of Fire)-এর ওপর অবস্থিত। এখানে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলির সংঘর্ষ এবং প্যাসিফিক প্লেটের ধীরে ধীরে জাপানের নিচের ভূস্তরের দিকে ঢুকে যাওয়ার (সাবডাকশন) প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসময় ধরে যে চাপ তৈরি হয়, তা হঠাৎ মুক্তি পেলেই এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে এই জাপানেই ৯.০ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটেছিল।
