ভোট বিপর্যয়েও অনড় মমতা, বাংলার প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে কী করবেন রাজ্যপাল?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নবান্নে এক ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে সংবিধান ও প্রচলিত রীতির মেলবন্ধনে রাজ্যপালের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জয় কিষেন কৌল বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৭ মে বর্তমান মন্ত্রিসভার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলানোর অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করায় এবং পরাজয় স্বীকার না করায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে বিকল্প পথের কথা ভাবতে হতে পারে। বিচারপতি কৌল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজ্যপাল চাইলে ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত এক দিনের জন্য কোনো বিশেষ অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
অচলাবস্থার কারণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি করে তাঁদের হারানো হয়েছে, যার মধ্যে তাঁর নিজস্ব কেন্দ্র ভবানীপুরও রয়েছে। এই ‘জোরপূর্বক পরাজয়’ মানতে নারাজ হয়েই তিনি পদত্যাগে অস্বীকার করেছেন। এই রাজনৈতিক অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে রাজ্যে যাতে কোনো প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেজন্য রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত কোনো সরকারি ফাইল নড়াচড়া করা যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং রাজ্যপালও আইনি বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত রাজ্যপাল প্রচলিত প্রথা মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন, নাকি সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ভিন্ন কোনো পথ বেছে নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। নতুন সরকারের শপথ না হওয়া পর্যন্ত বাংলার এই রাজনৈতিক টানাপড়েন জনমনে গভীর উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
