ভোটার তালিকায় আধার কার্ডের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়, স্বস্তি ফিরল সাধারণ মানুষের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার কার্ডের গুরুত্ব নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটাল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার Supreme \titleonly কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আধার কার্ড সম্পূর্ণ বৈধ নথি হিসেবে গণ্য হবে। শুধু আধারই নয়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এবং পাসের শংসাপত্রকেও নথি হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে নাগরিকদের প্রতি ‘সম্পূর্ণ সুবিচার’ নিশ্চিত করার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারপতি।
বিতর্কের কেন্দ্রে আধার: কী জানাল শীর্ষ আদালত?
এদিন শুনানির সময় ‘সনাতন সংসদ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জাল আধার কার্ড ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল এবং আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে দেন যে, আধার হয়তো নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু পরিচয়পত্র হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যোগ করেন, আধার কার্ড জাল হচ্ছে কি না তা বিচার করার সঠিক সময় এটি নয়, এবং কোনোভাবেই এই নথি বাতিল করা সম্ভব নয়।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও অতিরিক্ত তালিকার ভবিষ্যৎ
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। তবে এটিই শেষ নয়; এরপরও লাগাতার অতিরিক্ত তালিকা বা ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’ প্রকাশ করতে হবে এবং সেগুলিকে মূল তালিকার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া সমস্ত নথির ভিত্তিতেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের গরমিল মেটানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে।
বিচার বিভাগীয় নজরদারি ও ভিন রাজ্যের সাহায্য
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০ লক্ষ নামের তথ্য যাচাই বা ‘আনম্যাপড ক্যাটিগরি’র নিষ্পত্তি করতে বিপুল সময়ের প্রয়োজন বলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল শীর্ষ আদালতকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে Supreme \titleonly কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে অভিজ্ঞ জুনিয়র ও সিনিয়র সিভিল জজদের নিয়োগ করা যাবে। প্রয়োজনে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট থেকেও জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত আধিকারিকদের সাম্মানিক এবং যাতায়াত খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, খরচের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যেন কোনো রকম দর কষাকষি না করা হয়।
প্রযুক্তিগত বাধা ও আগামী পদক্ষেপ
নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হলেও প্রথম দিনেই অ্যাপে লগ-ইন এবং ওটিপি সংক্রান্ত জটিলতায় বিচারকরা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ইআরও (ERO) এবং এআইআরও (AERO)-দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নথিগুলি যাচাই করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পেশ করার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়ায় আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদালতের এই রায়ের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার মেঘ অনেকটাই কেটে গেল।

