ভোটার তালিকায় নথি যাচাইয়ের পাহাড়: ১০ মার্চের আগে দ্বিতীয় দফার সম্ভাবনা ক্ষীণ
আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্যে জোরকদমে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় জমা পড়া বিপুল নথি যাচাইয়ের কাজ। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা সোমবার থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ নথি যাচাই বাকি থাকায় এবং জেলাগুলি থেকে চূড়ান্ত হিসাব না আসায় বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে প্রশাসন। কমিশনের সূত্রানুসারে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করে আগামী ১০ মার্চের আগে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যগত অসঙ্গতি মেটাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের নির্দিষ্ট বিধানসভা ভিত্তিক লগইন আইডি ও ওটিপি প্রদান করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বুথ ভিত্তিক পার্ট নম্বর ও এনিউমারেশন ফর্ম খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। প্রতিটি ভোটারের নথির পাশাপাশি ইআরও (ERO) এবং বিএলও (BLO)-দের স্ক্রুটিনি রিপোর্টও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিচারকদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আবেদন গ্রহণ বা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত রবিবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
জটিলতা সত্ত্বেও পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশিত হতে চলেছে। জেলা প্রশাসনগুলি ইতিমধ্যেই এই প্রকাশনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে নথি নিষ্পত্তির ধীরগতি এবং পাহাড়প্রমাণ তথ্যের চাপে দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা দ্রুত কাজ করলেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ও তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতে গিয়ে সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা বাড়ছে।

