ভোটের আগে অশান্তি রুখতে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ, জমায়েত বা বিক্ষোভ করলেই সরাসরি গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমবর্ধমান অশান্তির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে মালদহের সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনা—সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন থেকে রাজ্যজুড়ে অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের সভা, মিছিল বা জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, নিয়ম লঙ্ঘন করে জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলেই অভিযুক্তদের তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হবে। এমনকি সিইও দপ্তরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এখন থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বিএলও রক্ষা কমিটি মঞ্চের গতিবিধি। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি পুনরায় কোনো সরকারি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভের চেষ্টা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সাসপেনশনের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কলকাতায় ফর্ম ৬ সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে সিইও অফিসের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলপন্থী বিএলও এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে শুরু করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে পুলিশ ব্যর্থ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এছাড়া মালদহে কয়েকজন বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে।
রাজ্যের এই অস্থির অবস্থা পর্যালোচনা করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পরই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচনের মুখে কোনোভাবেই যাতে জনজীবন ব্যাহত না হয় এবং ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
