ভোটের বাজারে ‘চিকেন পলিটিক্স’! বিরিয়ানিকে গোল দিয়ে সিপিএমের পাতে মুরগির ঝোল, কংগ্রেসের বাজি কচি পাঁঠা

তপ্ত আবহাওয়ার মাঝে ভোটের ময়দানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সমান্তরালে চলল রসনা তৃপ্তির এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। তীব্র গরম এবং স্বাস্থ্য সচেতনতাকে মাথায় রেখে এবারের নির্বাচনী মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে এসেছে বড়সড় রদবদল। চিরচেনা বিরিয়ানিকে একপাশে সরিয়ে রেখে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই বেছে নিয়েছিল মুরগির হালকা ঝোল আর ভাত। কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বাজেটের টানাপড়েন উপেক্ষা করেই ব্রয়লার মুরগির বর্ধিত দামের বাজারে চলল ‘চিকেন পলিটিক্স’।
দলীয় মেনুতে চমক ও কৌশলী বদল
দীর্ঘদিন ধরে বামেদের মেনুতে ‘ডিম-ভাত’ প্রবাদপ্রতিম হয়ে থাকলেও এবার সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়েছে সিপিএম। কর্মীদের লড়াইয়ে চাঙ্গা রাখতে ঢালাও চিকেন-ভাতের আয়োজন ছিল তাদের শিবিরে। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক জায়গায় বিরিয়ানি থাকলেও ভ্যাপসা গরমে বদহজম এড়াতে তাদের বড় অংশই ঝুঁকেছিল জিরা রাইস ও মুরগির ঝোলে। তবে কংগ্রেসের মেনু ছিল বেশ রাজকীয়; কর্মীদের পাতে পড়েছে কচি পাঁঠার ঝোল আর মিষ্টি রসগোল্লা। বিজেপিও পিছিয়ে ছিল না, উত্তর কলকাতায় কোথাও নানপুরি-ছোলার ডাল আবার কোথাও চিলি চিকেন ও ফ্রায়েড রাইসে সেজেছিল তাদের লাঞ্চ প্যাকেট।
বাজারদর ও স্বাস্থ্যভাবনার প্রভাব
ভোটের বাজারে মুরগির মাংসের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৩০ টাকা বাড়লেও দলগুলোর উৎসাহে ভাটা পড়েনি। মূলত অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতা এড়াতেই কর্মীরা বিরিয়ানির বদলে হালকা মাংস-ভাত খাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে নিচুতলার কর্মীরা দেশি মুরগির আবদার করলেও বাজেটের কারণে ব্রয়লারেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে নেতাদের। এসইউসি-র মতো দলগুলো অবশ্য চিরাচরিত সাধারণ খাবারে সীমাবদ্ধ থেকেছে। সব মিলিয়ে ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ের আগে কর্মীদের রসনা তৃপ্তিতে কোনো খামতি রাখেনি কোনো পক্ষই।
এক ঝলকে
- তীব্র গরমের কারণে ভোটের লাঞ্চে বিরিয়ানির বদলে জনপ্রিয় হয়েছে মুরগির ঝোল ও ভাত।
- সিপিএম তাদের প্রথাগত ডিম-ভাত ছেড়ে এবার কর্মীদের পাতে তুলেছে চিকেন-ভাত।
- কংগ্রেসের মেনুতে ছিল খাসির মাংস ও রসগোল্লা, বিজেপির প্যাকেটে ছিল নানপুরি থেকে ফ্রায়েড রাইস।
- চাহিদার তুঙ্গে থাকায় বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ২৬০-২৭০ টাকায় ঠেকেছিল।
