ভোটের মুখে উত্তপ্ত বালি, গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্য – এবেলা

ভোটের মুখে উত্তপ্ত বালি, গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোটের দামামা বাজার মধ্যেই হাওড়ার বালিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার গভীর রাতে আচমকাই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বুথ এজেন্ট ও স্থানীয় দলীয় কর্মীদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সতীশ চক্রবর্তী লেনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রাহুল রায়, রমেন নিয়োগী, রাকেশ চক্রবর্তী ও সোনু পালের মতো যুব তৃণমূল নেতাদের আটক করে বালি ও বেলুড় থানার পুলিশ। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই কেন এই অভিযান, তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র।

পুলিশি অতিসক্রিয়তা ও তৃণমূলের ক্ষোভ

তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন পর্যবেক্ষকের নির্দেশের দোহাই দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরপাকড় চালানো হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র দাবি করেছেন, পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক কর্মীদের তুলে নিয়ে যান। এরপরই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি বেলুড় থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিজেপি প্রার্থীরা এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে ঘুরলেও পুলিশ নীরব থাকছে, অথচ বেছে বেছে তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি ও এজেন্টদের টার্গেট করা হচ্ছে।

আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

এই পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে এবং আটক কর্মীদের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ভোটের আগ মুহূর্তে এই ধরপাকড় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং এলাকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এক ঝলকে

  • বালি ও বেলুড় থানার পুলিশের গভীর রাতের অভিযানে তৃণমূলের একাধিক বুথ এজেন্ট ও দলীয় কর্মী আটক।
  • পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র।
  • কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ কর্মীদের তুলে নিয়ে গেছে বলে তৃণমূলের দাবি।
  • এই ঘটনার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ এবং কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *