ভোটের মুখে বড়সড় ভাঙন তৃণমূল শিবিরে, বিজেপিতে যোগ দিলেন বনগাঁর ১০ আইনজীবী

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ঘর গোছাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো। তবে ভোটের ঠিক আগে বনগাঁয় বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন বনগাঁ মহকুমা আদালতের ১০ জন বর্ষীয়ান আইনজীবী। বিজেপি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ এবং গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার উপস্থিতিতে এই আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন। রাজ্যজুড়ে দলবদলের যে খেলা চলছে, তাতে আইনজীবীদের এই দলবদল বনগাঁর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তৃণমূল ত্যাগের নেপথ্যে শাসকদলের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন আইনজীবীরা। দীর্ঘ পাঁচ বছর সরকারি পিপি হিসেবে কাজ করা আইনজীবী সমীর ঘোষ জানান, দলের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা নেই। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যার কারণেই তিনি পদত্যাগ করে আদর্শগত লড়াইয়ের স্বার্থে বিজেপিতে শামিল হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের প্রার্থীর ভয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পেশাদার আইনজীবীরা পর্যন্ত আতঙ্কিত। তাঁর মতে, শাসকদলের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে বেছে নিচ্ছেন।
আইনজীবীদের এই গণ-দলবদলকে যদিও বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, ১০ জন নয় বরং একজন দলবদলু আইনজীবী বিজেপিতে গিয়েছেন। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি বারবার রাজনৈতিক রঙ বদল করেন এবং এলাকায় তাঁর কোনো জনভিত্তি নেই। তৃণমূলের মতে, এই যোগদানে নির্বাচনের ফলে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের এই টানাপোড়েনে বনগাঁর রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
