ভোটের মুখে রেশনে জাতীয় প্রকল্প নিয়ে সমীক্ষায় কেন্দ্র! ক্ষুব্ধ ডিলার সংগঠন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই রেশন ব্যবস্থা নিয়ে নজিরবিহীন সক্রিয়তা শুরু করল কেন্দ্র। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প তথা ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র উপভোক্তাদের ওপর বিশেষ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। ইতিমধ্য়েই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় এই সমীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশের পরই নবান্ন থেকে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই স্পর্শকাতর সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লির ‘অ্যাকাডেমি অব ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ’ নামক একটি সংস্থাকে। নবান্ন সূত্রে খবর, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদেরও এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। তিন দফায় চলবে এই সমীক্ষা। প্রথম দফায় কলকাতার পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর, নদীয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এই সমীক্ষায় শুধুমাত্র গ্রাহকরাই নন, আতশকাচের তলায় রাখা হচ্ছে রেশন ডিলার, খাদ্যগুদামের কর্মী এবং নজরদারি কমিটির সদস্যদেরও। সমীক্ষকরা সরাসরি দোকানে গিয়ে যেমন তথ্য নিচ্ছেন, তেমনই বাড়ি বাড়ি গিয়েও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলছেন। বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর অভিযোগ, ডিলারদের ওপর কাজের চাপ এমনিতেই পাহাড়প্রমাণ, তার ওপর এই সমীক্ষার নামে নতুন করে ঝক্কি তৈরি করা হচ্ছে। গ্রাহকদের মধ্যে ডিলারদের নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং নজরদারির নামে আদতে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই সমীক্ষার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে রাজ্যে জাতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কোটি গ্রাহক রয়েছেন। যদিও খাদ্যশস্য কেন্দ্র সরবরাহ করে, কিন্তু ডিলারদের কমিশন ও পরিবহণ খরচের বড় অংশই বহন করতে হয় রাজ্য সরকারকে। তা সত্ত্বেও প্রকল্পের পুরো কৃতিত্ব কেন্দ্রের নেওয়া এবং ভোটের আগে এমন আকস্মিক সমীক্ষাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
