ভোটের সকালে মোটাভাই’র গোপন বৈঠক আর বিশেষ নির্দেশের বিস্ফোরক দাবি মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভা নির্বাচনের আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপাড়ার এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের গতি কমিয়ে দিতে এবং সাধারণ ভোটারদের বাধা দিতে নেপথ্যে বিশেষ ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, শনিবার সকালেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সিআরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভোটের গতি কমানোর ষড়যন্ত্র ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে অমিত শাহকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, নন্দীগ্রামে ভোট লুঠের কারিগরদের নিয়েই এই গোপন বৈঠক হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর করে দেওয়া হয় যাতে মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে ফিরে যান। এমনকি তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও একই কৌশল প্রয়োগের জন্য এক শীর্ষ সিআরপিএফ কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ১৯ জন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নামিয়েও বাংলা দখল করা সম্ভব নয়।
বেকারত্ব ও শিল্প ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বাড়লেও বাংলায় তা সমপরিমাণ কমেছে। বিরোধীদের শিল্পহীনতার অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি হাওড়া থেকে বর্ধমান পর্যন্ত হাইওয়ের ধারের কলকারখানার উদাহরণ টানেন। বিজেপি যখন আকাশপথে ৫০টি হেলিকপ্টার নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে, তখন তৃণমূল সীমিত সম্পদ নিয়ে লড়াই করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপি নেতৃত্বের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ভোটারদের বাধা দিতে এবং ভোট গ্রহণের গতি কমিয়ে দিতে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ তৃণমূল নেত্রীর।
- বেকারত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রকে বিঁধে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প প্রসারের পরিসংখ্যান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।
- কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও বিপুল নির্বাচনী খরচের দাপট দেখিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি।
