মঙ্গলের প্রাচীন জলপথে মিলল বিরল ধাতু, লাল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে জোরালো হচ্ছে সম্ভাবনা

লাল গ্রহ মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, সেই দীর্ঘকালীন রহস্য সমাধানে এবার মিলেছে এক চমকপ্রদ ইঙ্গিত। নাসার ‘পারসিভারেন্স রোভার’ মঙ্গলের নেরেতভা উপত্যকায় এক প্রাচীন জলপথের সন্ধান চালাতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে নিকেল ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করছেন, কারণ এর আগে মঙ্গলের শিলাস্তরে এত উচ্চ ঘনত্বের নিকেল কখনও দেখা যায়নি। এই নতুন তথ্য গ্রহটির রাসায়নিক ইতিহাস এবং সেখানে অণুজীবের বসবাসের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
নেরেতভা উপত্যকাটি এক সময় সক্রিয় জলপথ ছিল, যা বর্তমানে শুষ্ক মরুভূমি। ২০২৪ সালে নাসা এই উপত্যকায় ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল’ নামক একটি ফ্যাকাশে শিলাস্তর খুঁজে পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এখানকার নিকেল কোনো মহাজাগতিক উল্কাপিণ্ড থেকে আসেনি, বরং এটি মঙ্গলের নিজস্ব ভূ-স্তরের অংশ। আমেরিকার পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হেনরি মানেলস্কি জানিয়েছেন, মঙ্গলপৃষ্ঠে পাওয়া লৌহ-নিকেল উল্কাপিণ্ডের বাইরে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। সাধারণত গ্রহের গঠনের সময় নিকেল কেন্দ্রে চলে যায়, তাই পৃষ্ঠতলে এর বিপুল উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই শিলাস্তরে নিকেলের পাশাপাশি পাইরাইটের মতো লৌহ-সালফায়েড খনিজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে এই ধরনের খনিজ সাধারণত অণুজীবসমৃদ্ধ পরিবেশে দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাচীনকালে প্রবাহিত জলের স্রোতে উল্কাপিণ্ডের নিকেল দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে মিশে গিয়েছিল, যা অণুজীবের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য মৌল হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। শিলাস্তরে পলির ক্ষয়ের চিহ্ন এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রমাণ মঙ্গলে একসময় গতিশীল জলের অস্তিত্বকেও নিশ্চিত করছে।
এই আবিষ্কারটি মঙ্গলে প্রাণের সন্ধানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। গবেষকদের মতে, নিকেল ও লৌহ-সালফায়েডের এই অনন্য সংমিশ্রণ কেবল ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং এটি প্রাচীন অণুজীবীয় কার্যকলাপের ইঙ্গিতবাহী হতে পারে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন, তবে নেরেতভা উপত্যকার এই ‘অপ্রত্যাশিত’ ধাতু লাল গ্রহের প্রাচীন জীবন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
