মজাপুকুরের পাঁক খুঁড়তেই বেরিয়ে এল হাজার বছরের ইতিহাস! মেমারিতে কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধারে শোরগোল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 21, 202612:30 pm
পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে পুকুর সংস্কার করতে গিয়ে মিলল এক দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। একাদশ শতকের সেন আমলের একটি প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়র গ্রামে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি ‘ত্রিবিক্রম’ শৈলীর এবং এটি কালো ব্যাসল্ট বা কষ্টিপাথরের তৈরি বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেভাবে প্রকাশ্যে এল লুকানো ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়র গ্রামের ‘ভেবার পাড়’ নামক একটি দীর্ঘদিনের মজাপুকুর সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছিলেন পুকুর মালিক। বৃহস্পতিবার যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুকুরের গভীর থেকে পাঁক তোলার সময় হঠাৎই যন্ত্রের ডগায় কালো পাথরের একটি মূর্তির অংশ আটকে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান পুকুরপাড়ে। গ্রামবাসীদের মধ্যে উন্মাদনা এতটাই ছিল যে, একাংশ মূর্তিটিকে স্থানীয় মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও শুরু করে দিয়েছিলেন।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতা
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুক্রবার সকালে মেমারি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষকে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি শ্যামসুন্দর বেরা থানায় পৌঁছে মূর্তিটি পরীক্ষা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা সংগ্রহ করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিচার করে এই প্রাচীন সম্পদটি এখন থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালাতেই সংরক্ষিত থাকবে।
মূর্তির গঠন ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
সংগ্রহশালার বিশেষজ্ঞ শ্যামসুন্দর বাবু জানান, মূর্তিটির উচ্চতা ৩১ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১৫ ইঞ্চি। মূর্তিতত্ত্ব অনুযায়ী এটি ভগবান বিষ্ণুর ‘ত্রিবিক্রম’ রূপ। মূর্তির উপরের ডান হাতে গদা এবং বাম হাতে চক্র বিদ্যমান। তবে দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় বিষ্ণুদেবের নিচের দুটি হাত এবং মুখের একাংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার রাঢ় বঙ্গের প্রাচীন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। উল্লেখ্য, মাত্র মাসখানেক আগেই জেলার রায়না ব্লকের পলাসন গ্রামে একই ধরণের একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়েছিল। মেমারির এই নবতম আবিষ্কার পুনরায় প্রমাণ করল যে, একাদশ শতকের পাল ও সেন আমলে এই অঞ্চলে হিন্দু সংস্কৃতির শিকড় কতটা গভীর ছিল।

