লেটেস্ট নিউজ

মদ কেলেঙ্কারি মামলায় বেকসুর খালাস কেজরিওয়াল, আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আপ সুপ্রিমো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউ দিল্লি ডেস্ক

দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান। দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি নীতি বা ‘মদ কেলেঙ্কারি’ মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াকে ক্লিনচিট দিল দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চার্জশিটে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনো পর্যাপ্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেনি সিবিআই।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতৃত্ব। বেকসুর খালাস হওয়ার খবর কানে আসতেই এজলাসের ভেতর চোখের জল মুছতে দেখা যায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। পাশে থাকা মণীশ সিসোদিয়াও তখন আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এই মামলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে জাতীয় রাজনীতিতে যে ঝড় উঠেছিল, আদালতের পর্যবেক্ষণে তা এক নতুন মোড় নিল।

তদন্তকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আদালত তার পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিচারক জানান, আবগারি নীতিতে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অসাধু উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ছাড়াও আরও ২১ জন অভিযুক্তকে এই মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চার্জশিটের দুর্বলতা এবং প্রমাণের অভাব তদন্তকারী সংস্থাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে।

সুনীতা কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে কেউ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ঈশ্বরের চেয়ে বড় কেউ নয়। আমি বিচারকের সাহসকে কুর্নিশ জানাই। ক্ষমতার লোভে আমাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে, কিন্তু আজ সত্যের জয় হলো।”

মামলার ঘটনাক্রম: এক নজরে

  • অক্টোবর ২০২৩: ইডি-র প্রথম সমন কেজরিওয়ালকে।
  • মার্চ ২০২৪: ৯টি সমন এড়িয়ে যাওয়ার পর ইডি-র হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।
  • জুন ২০২৪: Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেও ফের সিবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তার।
  • সেপ্টেম্বর ২০২৪: Supreme \titleonly কোর্ট থেকে নিয়মিত জামিন লাভ।
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত থেকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি ও ক্লিনচিট।

আদালতের এই রায়ে আম আদমি পার্টি বড়সড় রাজনৈতিক অক্সিজেন পেলেও, বিরোধী শিবির এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *