মদ সরবরাহের নামে ৩০০ কোটির বিপুল তোলাবাজি, তদন্ত চেয়ে এবার আবগারি দফতরে ব্যবসায়ীরা! – এবেলা

মদ সরবরাহের নামে ৩০০ কোটির বিপুল তোলাবাজি, তদন্ত চেয়ে এবার আবগারি দফতরে ব্যবসায়ীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় মদ পরিবহণ ও সরবরাহের অছিলায় খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মদতেই এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি পশ্চিমবঙ্গ মদ ব্যবসায়ীদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, এবার এই গোটা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চেয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের আবগারি দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।

নিয়ম লঙ্ঘন ও রসিদহীন আর্থিক লেনদেন

মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেন লিকার লাইসেন্সিজ’-এর পক্ষ থেকে আবগারি কমিশনারকে একটি চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে মূল অভিযোগ করা হয়েছে ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ ব্যবস্থার নিয়ম লঙ্ঘন নিয়ে। ২০২১ সালের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটরদের নিজস্ব খরচে খুচরো বিক্রেতাদের আউটলেটে মদ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রতি বোতল বা ক্যান বিয়ার সরবরাহের জন্য ১০ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত ‘পরিবহণ খরচ’ দিতে বাধ্য করতেন প্রভাবশালীরা। পাশাপাশি বিদেশি এবং দেশি মদ সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘লোডিং এবং আনলোডিং ফি’ বা গাড়ি থেকে মাল নামানোর নামেও অর্থ তোলা হত। এই বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনও রসিদ বা বৈধ নথি দেওয়া হতো না। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই খুচরো ব্যবসায়ীরা এতদিন এই অনৈতিক দাবি মেনে নিয়েছিলেন বলে সংগঠনের সচিব বিজনকুমার পাত্র জানিয়েছেন।

স্বচ্ছতার বদলে দুর্নীতির হাতিয়ার

রাজ্যে মদের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ২০১৭ সালে গঠিত হয়েছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’। তখন পাইকারি মদ বিতরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল এই সরকারি সংস্থার হাতে। কিন্তু ২০২১ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো মডেল’ চালু করে এবং সরকারি কর্পোরেশনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, এই নতুন মডেলে ব্যবসায় আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা আসবে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্বচ্ছতা আসার পরিবর্তে এই নতুন মডেলকেই পরবর্তীতে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা।

তদন্তের আর্জি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ব্যবসায়ীরা স্বীকার করেছেন যে, এই লেনদেন সম্পূর্ণ রসিদহীন হওয়ায় তাঁদের কাছে কোনও লিখিত প্রমাণ নেই। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে আবগারি দফতরে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি, উল্টে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে শাসনভার পরিবর্তনের পর, নতুন সরকারের আবগারি বিভাগের কাছে এই চক্রের পর্দাফাঁস করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনার জেরে আবগারি দফতরে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মদ বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্ত রকম অননুমোদিত বা বেআইনি মাশুল আদায় পুরোপুরি বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজস্ব আদায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *