মদের ঘোরেই শেষ রক্ষা হলো না, নিউটাউনে ট্রাফিক দুর্ঘটনায় পুলিশের খাঁচায় পলাতক প্রাক্তন বিডিও – এবেলা

মদের ঘোরেই শেষ রক্ষা হলো না, নিউটাউনে ট্রাফিক দুর্ঘটনায় পুলিশের খাঁচায় পলাতক প্রাক্তন বিডিও – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আইনের চোখে ধুলো দিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলা ইঁদুর-বেড়াল খেলার অবসান ঘটল এক চরম নাটকীয়তায়। কোনো হাইটেক নজরদারি বা পুলিশের সাজানো ফাঁদ নয়, নিজের সীমাহীন দম্ভ এবং মদের ঘোরে করা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই কাল হলো এক হাই-প্রোফাইল পলাতক আমলার। সোনা ব্যবসায়ী খুনের মূল অভিযুক্ত, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনকে সোমবার রাতে নিউটাউন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট—উভয় আদালতেই আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ফেরার ছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনা ও আমলাতান্ত্রিক আস্ফালন

সোমবার গভীর রাতে নিউটাউনের সর্চি সিগন্যালের মোড়ে সম্পূর্ণ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অপসারিত সরকারি আধিকারিক প্রশান্ত বর্মন। মদের ঘোরে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তিনি সোজা গিয়ে ধাক্কা মারেন একটি চলন্ত বাইকে। তীব্র আঘাতে বাইক আরোহী ছিটকে পড়েন পিচের রাস্তায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কোনো অপরাধী এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলেও, আমলাতান্ত্রিক অহংকারের বশে উল্টো কাণ্ড ঘটান প্রশান্তবাবু। গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হন, উপস্থিত জনতাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং সবাইকে থাপ্পড় মারার হুমকি দেন। এমনকি বুক ফুলিয়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার করে দেখাক!”

পরিচয় মিলতেই চোখ চড়কগাছ পুলিশের

খবর পেয়ে ইকোপার্ক থানার police ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এবং অশান্তি ছড়ানোর অপরাধে তাঁকে ধরা হলেও, থানায় পরিচয়পত্র যাচাই করতেই পুলিশ আধিকারিকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। জানা যায়, এই মদ্যপ চালক আসলে এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সল্টলেকের দত্তাবাদের নামী সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার রহস্যজনক নিখোঁজ ও পরবর্তীতে নিউটাউন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম উঠেছিল এই প্রশান্ত বর্মনের।

প্রভাব ও আইনি ভবিষ্যৎ

এই গ্রেফতারির ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একটি হাই-প্রোফাইল খুনের মামলার তদন্তে বড়সড় গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একজন পদস্থ সরকারি আধিকারিকের এভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এবং আইনি ব্যবস্থা এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোয় প্রশাসনের অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, এই গ্রেফতারির পর তা কিছুটা লাঘব হবে। একই সাথে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পালিয়ে বেড়ানো অপরাধীদের জন্য এটি একটি বড় বার্তা। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা থাকায় এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আগেই আবেদন খারিজ হওয়ায়, অভিযুক্ত প্রাক্তন আমলার আইনি জটিলতা ও শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা এখন আরও প্রবল হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *