মধুচন্দ্রিমায় শ্বশুরবাড়ির লোক, ক্ষোভে ডিভোর্সের পথে নববধূ! – এবেলা

মধুচন্দ্রিমায় শ্বশুরবাড়ির লোক, ক্ষোভে ডিভোর্সের পথে নববধূ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিয়ে পরবর্তী জীবনের অন্যতম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত হলো মধুচন্দ্রিমা, যা নবদম্পতির নিভৃতে সময় কাটানোর এবং একে অপরকে গভীরভাবে জানার শ্রেষ্ঠ সুযোগ। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের এক নববধূর ক্ষেত্রে এই একান্ত মুহূর্ত পরিণত হলো এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। স্বামীর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে তিনি আবিষ্কার করলেন, তাদের সফরসঙ্গী হয়েছেন শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও দেওরের পুরো পরিবার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়ে নিজের ব্যক্তিগত পরিসর হারিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ওই তরুণী শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন।

ব্যক্তিগত পরিসরে মতবিরোধ

বিয়ের পরপরই ওই নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমায় রওনা হন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে স্ত্রীর কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তাদের হানিমুন ট্রিপে পরিবারের সদস্যরাও শামিল হয়েছেন। এই ঘটনায় হতবাক ও ক্ষুব্ধ নববধূ বিবাহ কাউন্সেলিং কেন্দ্রে নালিশ জানান। তরুণীর স্পষ্ট বক্তব্য, মধুচন্দ্রিমার মূল উদ্দেশ্য স্বামী-স্ত্রীর নিবিড় সাহচর্য ও বোঝাপড়া তৈরি করা, যা পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্ভব নয়। অন্যদিকে, স্বামীর দাবি সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি দেখছেন না এবং পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই দাম্পত্য কলহের প্রধান কারণ হলো স্বামী-স্ত্রীর মানসিকতার ফারাক এবং বিয়ের পর ব্যক্তিগত সীমানা বা ‘বাউন্ডারি’ নির্ধারণের অভাব। স্ত্রীর কাছে যেখানে একান্ত সময় কাটানো ও সম্পর্কের ভিত শক্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে স্বামী পরিবারের সবাইকে খুশি রাখাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। দৃষ্টিভঙ্গির এই বিরাট পার্থক্যের কারণে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমেও সমস্যার কোনো সুরাহা করা যায়নি। ফলস্বরূপ, বোঝাপড়ার এই অভাব ও মতবিরোধের জেরে নতুন এই সম্পর্ক একেবারে শেষের পথে এবং বাধ্য হয়েই ডিভোর্সের পথ বেছে নিচ্ছেন ওই নববধূ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *