মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ল মার্কিন ‘জলদানব’ জেরাল্ড ফোর্ড! তবে কি অবশেষে থামতে চলেছে বিধ্বংসী যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রণকৌশলে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এই অঞ্চল ত্যাগ করল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের আবহে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার পর শুক্রবার এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক এই রণতরী প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত গাজা ও লেবানন সীমান্তে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘জলদানব’ মোতায়েন করেছিল পেন্টাগন।
কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, এই রণতরী প্রত্যাহারের পেছনে সামরিক কৌশল ও বাহিনীর রোটেশন প্রক্রিয়া কাজ করছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির ফলে সৃষ্ট ব্যয় এবং কূটনৈতিক চাপ কমাতেই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে আপাতদৃষ্টিতে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরির একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও, পেন্টাগন সরাসরি এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব
জেরাল্ড ফোর্ড বিদায় নিলেও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ও নৌবহর আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে। তবে এই বিশাল রণতরী সরিয়ে নেওয়াকে অনেক পক্ষ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে। যদি এর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কমে, তবে তা গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যথায়, শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হলে নতুন কোনো পক্ষ আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ নিতে পারে।
এক ঝলকে
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করেছে।
- ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এটি কৌশলগত মোতায়েন ছিল।
- সামরিক রোটেশন ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- রণতরীটি সরে যাওয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
