মনিপুরে কুকি জঙ্গিদের গুলিতে লরিচালকের মৃত্যু, অথৈ জলে হুগলির পরিবার – এবেলা

মনিপুরে কুকি জঙ্গিদের গুলিতে লরিচালকের মৃত্যু, অথৈ জলে হুগলির পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মনিপুরের জাতিগত সহিংসতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল হুগলির এক সাধারণ পরিবারের ভবিষ্যৎ। মনিপুরের ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে উখরুল জেলার কাসোম এলাকায় কুকি জঙ্গিদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন হুগলির ত্রিবেণীর বাসিন্দা ও পেশাদার লরিচালক নীতিশ দাস (৬৩)। নিরাপত্তাবাহিনীর পাহারায় লরির একটি বহর যাওয়ার সময় পাহাড়ের ওপর থেকে এই হামলা চালানো হয়। লরির বহরের একেবারে সামনে থাকা নীতিশ দাসের শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে মনিপুর ও আসামের রুটে পণ্যবাহী লরি চালিয়ে আসা এই চালকের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার।

উপার্জনহীন পরিবারে ভবিষ্যতের অন্ধকার

নীতিশ দাসের মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি পুরো পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনা। ২০২৪ সালে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে এক অসুস্থ ছেলে এবং এক মেয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। তাঁর ছেলে নগেন দাস দীর্ঘদিন ধরে অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগে আক্রান্ত, যার চিকিৎসার মোটা অঙ্কের খরচ নীতিশবাবু লরি চালিয়েই জোগাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের এই নৃশংস পরিণতিতে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা মনিপুরের জাতীয় সড়কগুলোতে পণ্যবাহী যানচলাচলের ক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তা সংকটকে পুনরায় সামনে এনেছে। পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে সাধারণ শ্রমিক ও চালকদের ওপর আধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে, তা আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য সরবরাহের চেইনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনার জেরে ভিনরাজ্যের চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা মনিপুরের মতো অশান্ত রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে সরকারি সাহায্যের আশায় দিন গুনছে হুগলির ওই অসহায় পরিবারটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *