মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন চির বিরোধী অধীর চৌধুরী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসে বিলীন হওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো দলে ফেরার জল্পনা এখন তুঙ্গে। এই রাজনৈতিক আবহে সর্বদাই তীব্র তৃণমূল-বিরোধী হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, তবে দল বাঁচানোর তাগিদেই তিনি রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের বিরোধিতা করেছিলেন।
ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, আদর্শের লড়াই
নয়াদিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে অধীর চৌধুরী জানান, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর বিরোধিতা পুরোপুরি রাজনৈতিক। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে খতম করতে চেয়েছিল এবং একজন কংগ্রেস কর্মী ও নেতা হিসেবে তিনি সর্বদা সেই আক্রমণ মোকাবিলার চেষ্টা করেছেন। এটিকে তিনি নিজের রাজনৈতিক ধর্ম বলেই মনে করেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই সম্ভাব্য দলবদলকে কটাক্ষ করে অধীর বলেন, ভোটে হেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কংগ্রেসের দিকে পা বাড়াচ্ছেন, অন্যথায় এর আগে তিনি কখনও এমন উদ্যোগ নেননি।
তৃণমূলের ভাঙন এবং নিচুতলার বিভ্রান্তি
বর্তমানের এই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই ও অত্যাচার সহ্য করে কংগ্রেস কর্মীরা টিকে আছেন, সেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেই আবার হাত মেলানোর প্রক্রিয়াকে কর্মীরা সহজে মেনে নিতে পারছেন না। অন্যদিকে, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, আরএসএস ও বিজেপির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং রাহুল গান্ধীকে দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে যারা লড়াই করতে চান, তাদের সবার জন্যই কংগ্রেসের দরজা খোলা। তবে তিনিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
যদি এই রাজনৈতিক সংযুক্তি সত্যি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ও দলছুট নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে রাজ্য স্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা তৃণমূল-কংগ্রেস দ্বন্দ্বের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। তবে নিচুতলার কর্মীদের অসন্তোষ ও শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের মেলবন্ধন ঘটানোই এখন হাত শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
