মমতাকে বড় ধাক্কা: ঋতব্রত শিবিরের নতুন জেলা কমিটিতে ফেরানো হলো পুরনো নেতাদের! – এবেলা

মমতাকে বড় ধাক্কা: ঋতব্রত শিবিরের নতুন জেলা কমিটিতে ফেরানো হলো পুরনো নেতাদের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ঠেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামীরা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সম্প্রতি রাজ্য কমিটি গঠনের পর এবার জেলা কমিটিও ঘোষণা করল ঋতব্রত শিবির।

শনিবার কলকাতার বোটিং ক্লাবে আয়োজিত বৈঠকে এই জেলা কমিটি গঠন করা হয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সময় যে সাত জেলা সভাপতি তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাইকেই নতুন করে সেই একই পদে বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, দলবদল করলেও তাঁদের সাংগঠনিক গুরুত্ব ও পদ অপরিবর্তিত রইল।

নতুন কমিটিতে কাদের গুরুত্ব? ঋতব্রত শিবিরের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে যুক্ত থাকা নেতা এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে সাহায্য করা অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন:

  • মহুয়া গোপ: জলপাইগুড়ি
  • অপূর্ব সরকার: মুর্শিদাবাদ
  • দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়: রানাঘাট
  • দেবাশিস কুমার: দক্ষিণ কলকাতা
  • অরুণাভ সেন: হাওড়া গ্রামীণ
  • নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী: পশ্চিম বর্ধমান
  • রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়: পূর্ব বর্ধমান

পাশাপাশি, বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুব্রত এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। তবে তৃণমূল, তৃণমূলই।” এছাড়া কোচবিহারের দায়িত্ব প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে।

অন্যান্য নিয়োগ:

  • পুরুলিয়া: উজ্জ্বল কুমার
  • হাওড়া সদর: সৃষ্টিধর ঘোষ
  • যাদবপুর ও ডায়মন্ড হারবার: শুভাশিস দাস
  • সুন্দরবন: গণেশ মণ্ডল
  • জঙ্গিপুর: ইমানী বিশ্বাস

পাল্টা প্রতিক্রিয়া: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের মতে, এভাবে দল ভেঙে কেউ শক্তিশালী হতে পারে না। প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “ওদের এই কৌশলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। উল্টে ওদের শিবিরের অনেকেই এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”

যদিও ঋতব্রত শিবিরের মুখপাত্র আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, বিধায়কদের একাংশ বিধানসভার কাজের চাপে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দলের প্রতি তাঁদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সব মিলিয়ে এই নতুন জেলা কমিটি গঠন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য রাজনৈতিকভাবে যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *