মমতাকে বরখাস্ত করতে পারেন রাজ্যপাল? পদত্যাগ না করায় বাংলায় নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট!

মমতাকে বরখাস্ত করতে পারেন রাজ্যপাল? পদত্যাগ না করায় বাংলায় নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে রাজ্য। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয় এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থানের ফলে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা ঘনীভূত হয়েছে।

সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ ও রাজ্যপালের ক্ষমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর অনড় মনোভাব পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগের ক্ষমতা যেমন রাজ্যপালের হাতে থাকে, তেমনি মন্ত্রিপরিষদ রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে পদে বহাল থাকেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু বর্তমান সরকারের মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে চলেছে এবং নির্বাচনে শাসক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তাই রাজ্যপাল চাইলে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি শাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে রাজ্যে স্বল্প মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে আইনি শূন্যতা পূরণে রাষ্ট্রপতি শাসনই একমাত্র পথ হতে পারে। যদিও রাজ্যপাল চাইলে নিজে থেকে চিঠি পাঠিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরবর্তী শপথ গ্রহণ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারেন, তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত দেশে এক অভিনব ও বিতর্কিত নজির তৈরি করল। শেষ পর্যন্ত রাজভবন এই জট কাটাতে কী ভূমিকা নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *